মাঠের পারফরম্যান্সে আফগানিস্তান ক্রিকেট দল বর্তমানে সমীহ জাগানিয়া হলেও, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সাম্প্রতিক ম্যাচে এক অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্কে জড়িয়েছেন অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার মোহাম্মদ নবি। আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ এবং দীর্ঘ তর্কে লিপ্ত হওয়ায় তাকে আর্থিক জরিমানার পাশাপাশি শাস্তিমূলক ব্যবস্থার আওতায় এনেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (ICC)।
আম্পায়ারের সাথে দীর্ঘ বিতর্ক ও আচরণবিধি লঙ্ঘন ঘটনাটি ঘটে বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে আফগানিস্তানের ইনিংসের ১৪তম ওভারে। প্রোটিয়া পেসার লুঙ্গি এনগিডির বোলিং করার সময় তার হাতের ‘রিস্ট ব্যান্ড’ (Wrist Band) নিয়ে আপত্তি তোলেন নবি। বিষয়টি নিয়ে মাঠের আম্পায়ারদের সাথে তিনি দীর্ঘ সময় বিতণ্ডায় জড়ান। আম্পায়াররা বিষয়টি মীমাংসা করতে চাইলেও নবি তার অবস্থানে অনড় থাকেন এবং প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
আইসিসির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে আপত্তি জানানোয় নবি আইসিসির আচরণবিধির (Code of Conduct) লেভেল-১ ধারা ভঙ্গ করেছেন। অনুচ্ছেদ ২.৮ অনুযায়ী, আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের প্রতি অসম্মান প্রদর্শন করা একটি দণ্ডনীয় অপরাধ।
শাস্তি হিসেবে জরিমানা ও ডিমেরিট পয়েন্ট আফগান এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ স্বীকার করে নিয়েছেন। আইসিসির আন্তর্জাতিক প্যানেলের ম্যাচ রেফারি ডেভিড গিলবার্ট এই শাস্তির প্রস্তাব দেন। নবি দোষ স্বীকার করে নেওয়ায় কোনো আনুষ্ঠানিক শুনানির প্রয়োজন পড়েনি। শাস্তি হিসেবে তার ম্যাচ ফির (Match Fee) ১৫ শতাংশ জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি গত ২৪ মাসের মধ্যে এটিই তার প্রথম অপরাধ হওয়ায় তার নামের পাশে একটি ‘ডিমেরিট পয়েন্ট’ (Demerit Point) যুক্ত করা হয়েছে। আগামী ২৪ মাসের মধ্যে আরও ডিমেরিট পয়েন্ট যুক্ত হলে তিনি ম্যাচ নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়তে পারেন।
রুদ্ধশ্বাস ম্যাচের প্রেক্ষাপট দক্ষিণ আফ্রিকা ও আফগানিস্তানের মধ্যকার এই ম্যাচটি ছিল বিশ্বকাপের অন্যতম রোমাঞ্চকর লড়াই। নির্ধারিত ২০ ওভারের লড়াই শেষে ম্যাচটি টাই (Tie) হয়। এরপর জয় নির্ধারণের জন্য ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে (Super Over)। নাটকীয়তার এখানেই শেষ নয়; প্রথম সুপার ওভারেও দুদল সমান রান করলে দ্বিতীয় সুপার ওভারের প্রয়োজন পড়ে। শেষ পর্যন্ত স্নায়ুচাপ ধরে রেখে দ্বিতীয় সুপার ওভারে জয় ছিনিয়ে নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা। এমন একটি হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে নবির এই মেজাজ হারানো তার দলের ফোকাসে কিছুটা হলেও প্রভাব ফেলেছিল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ক্রিকেটীয় সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখতে আইসিসি সর্বদা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে। নবির মতো একজন সিনিয়ির ক্রিকেটারের কাছ থেকে এমন আচরণ প্রত্যাশিত ছিল না বলে মন্তব্য করেছেন ক্রিকেট সংশ্লিষ্টরা।