বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি এবং এর শীর্ষ নেতৃত্ব তারেক রহমানকে উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে বিপুল ব্যবধানে জয়ের পর প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের এই অভিনন্দন বার্তা দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
তারেক রহমানের নেতৃত্বের ওপর জনগণের আস্থা: মোদি
নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, ঘোষিত ২৮৯টি আসনের মধ্যে বিএনপি ও তাদের জোট ২১০টি আসনে জয়লাভ করেছে। এই বিশাল বিজয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় নরেন্দ্র মোদি বলেন, “বাংলাদেশের সংসদীয় নির্বাচনে বিএনপিকে এক বড় বিজয়ে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য আমি তারেক রহমানকে আমার উষ্ণ অভিনন্দন জানাই। এই জয় আপনার নেতৃত্বের ওপর বাংলাদেশের জনগণের আস্থার প্রতিফলন।” ভারতের প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তাটি এনডিটিভিসহ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে গুরুত্বের সাথে প্রচারিত হয়েছে।
ভারত দীর্ঘকাল ধরে বাংলাদেশের সাথে ‘Bilateral Relations’ বা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে কাজ করছে। মোদি তার বার্তায় স্পষ্ট করেছেন যে, ভারত একটি “গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন” অব্যাহত রাখবে। তিনি আরও যোগ করেন, “আমাদের বহুমুখী সম্পর্ক জোরদার করতে এবং আমাদের সাধারণ উন্নয়ন লক্ষ্যগুলোকে এগিয়ে নিতে আপনার সাথে কাজ করার জন্য আমি উন্মুখ।”
৩৫ বছর পর নতুন রাজনৈতিক যুগে বাংলাদেশ
এবারের নির্বাচনের সবচেয়ে আলোচিত দিক হলো দীর্ঘ সাড়ে তিন দশকের নারী নেতৃত্বের অবসান। ১৯৯০ সালে এরশাদ সরকারের পতনের পর থেকে বাংলাদেশ দীর্ঘ সময় নারী প্রধানমন্ত্রীর শাসনামলে ছিল। সর্বশেষ ১৯৮৮ সালে কাজী জাফর আহমেদ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এবার তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠন করতে যাওয়ায় দীর্ঘ ৩৫ বছর পর একজন পুরুষ প্রধানমন্ত্রী পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এই রাজনৈতিক পটপরিবর্তন বাংলাদেশের ‘Governance’ এবং ‘Strategic Policy’-তে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
আন্তর্জাতিক সমর্থন ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট
কেবল ভারতই নয়, বিএনপির এই ঐতিহাসিক বিজয়ে অভিনন্দন জানিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও। ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস এবং রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন পৃথক বার্তায় বাংলাদেশের জনগণ এবং বিএনপিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। ওয়াশিংটন ও দিল্লির এই দ্রুত প্রতিক্রিয়া প্রমাণ করে যে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বাংলাদেশের এই ‘Democratic Transition’-কে অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের ‘Market Value’ বৃদ্ধি এবং ‘Geopolitics’-এ স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের সাথে কাজ করতে আগ্রহী বিশ্বশক্তিগুলো।
নির্বাচনী পরিসংখ্যান ও মাঠের চিত্র
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত দেশজুড়ে ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে এবার মোট ভোটার ছিলেন ১২ কোটি ৭৭ লাখের বেশি। তরুণ ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। নির্বাচনী পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজনৈতিক দলগুলোর ১ হাজার ৭৫৫ জন এবং ২৭৪ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ মোট ২ হাজার ২৯ জন প্রার্থী লড়াই করেছেন। শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন স্থগিত থাকায় ২৯৯ আসনে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়।
তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি জোটের এই ‘Landslide Victory’ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক। বিজয় পরবর্তী সহিংসতা এড়াতে বিএনপি ইতিমধ্যে দেশজুড়ে কোনো ধরনের বিজয় মিছিল না করার নির্দেশনা দিয়েছে, যা রাজনৈতিক মহলে বেশ প্রশংসিত হয়েছে। নতুন সরকার এখন শপথ গ্রহণ এবং রাষ্ট্র পরিচালনার চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় ‘Strategic Planning’ শুরু করেছে।