বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর নবনির্বাচিত সরকারের সঙ্গে কাজ করার প্রবল আগ্রহ প্রকাশ করেছে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি চীন। ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাসের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিশেষ বার্তায় এই নতুন রাজনৈতিক পটপরিবর্তনকে স্বাগত জানানো হয়েছে। ওয়াশিংটন, দিল্লি এবং ইসলামাবাদের পর বেইজিংয়ের এই ইতিবাচক অবস্থানকে তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত হতে যাওয়া আগামীর বাংলাদেশের জন্য একটি বড় ধরনের ‘Diplomatic Success’ বা কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
বেইজিংয়ের অভিনন্দন: নতুন অধ্যায় শুরুর অঙ্গীকার
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাস তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগণকে এবং নির্বাচনে জয়ী দল বিএনপিকে অভিনন্দন জানায়। বার্তায় উল্লেখ করা হয়, “ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য বাংলাদেশের জনগণ এবং নির্বাচনে এগিয়ে থাকার জন্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে অভিনন্দন।”
চীন-বাংলাদেশ সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরে বেইজিং আরও জানায়, “আমরা বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে একসাথে কাজ করার এবং চীন-বাংলাদেশ সম্পর্কের নতুন অধ্যায় লেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।” অবকাঠামো উন্নয়ন ও ‘Economic Growth’-এর ক্ষেত্রে চীনের এই সহযোগিতা নতুন সরকারের জন্য একটি বড় ‘Strategic Advantage’ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের নতুন ভাবমূর্তি
চীনের এই অভিনন্দন বার্তার আগে প্রভাবশালী অন্যান্য রাষ্ট্রগুলোও বিএনপির এই ‘Landslide Victory’-কে স্বাগত জানিয়েছে। শুক্রবার সকালে মার্কিন দূতাবাস এক বার্তায় তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন জোটের প্রতি অভিনন্দন জানিয়ে বলে, “উভয় দেশের সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তার অভিন্ন লক্ষ্য অর্জনে আমরা আপনাদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী।” মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন এই জয়কে গণতন্ত্রের এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
অন্যদিকে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তার অভিনন্দন বার্তায় বাংলাদেশের নতুন নেতৃত্বের প্রতি ‘Full Support’ পুনর্ব্যক্ত করেছেন। মোদি তার এক্স (সাবেক টুইটার) পোস্টে উল্লেখ করেন যে, এই জয় তারেক রহমানের ওপর জনগণের আস্থার প্রতিফলন। ভারত একটি ‘Inclusive’ বা অন্তর্ভুক্তিমূলক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেছে। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি এবং প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফও পৃথক বার্তায় এই নতুন জয়কে স্বাগত জানিয়েছেন।
ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ ও তারেক রহমানের চ্যালেঞ্জ
দীর্ঘ ৩৫ বছর পর বাংলাদেশ একজন পুরুষ প্রধানমন্ত্রী পেতে যাচ্ছে। তারেক রহমানের এই অভিষেক কেবল দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেই নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ার ‘Geopolitics’-এও বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ভারতের মতো প্রভাবশালী দেশগুলোর পক্ষ থেকে এই দ্রুত স্বীকৃতি নতুন সরকারের জন্য একটি শক্তিশালী ‘Global Legitimacy’ বা বৈশ্বিক বৈধতা তৈরি করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকারকে একদিকে যেমন দেশের ভেতরে ‘Institutional Reform’ বা প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার করতে হবে, অন্যদিকে বিশ্বশক্তিগুলোর সাথে সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রেখে ‘Infrastructure Development’ এবং ‘Foreign Investment’ আকর্ষণ করতে হবে। চীন ও ভারতের সমান্তরাল অভিনন্দন বার্তা প্রমাণ করে যে, উন্নয়ন ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে বড় শক্তিগুলো বাংলাদেশের নতুন নেতৃত্বের সাথে শক্তিশালী অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে মুখিয়ে আছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৯টি আসনের মধ্যে বিএনপি ও তাদের জোট ২১০টি আসনে জয় নিশ্চিত করার পর এখন চারদিকে সাজ সাজ রব। আন্তর্জাতিক অঙ্গনের এই উষ্ণ সংবর্ধনা বাংলাদেশের নতুন সরকারের চলার পথকে আরও মসৃণ করবে বলেই প্রত্যাশা করা হচ্ছে।