• ব্যবসায়
  • বিকাশ-নগদ-রকেটে লেনদেনের কড়াকড়ি শেষ: স্বাভাবিক ছন্দে ফিরল এমএফএস ও ডিজিটাল ব্যাংকিং

বিকাশ-নগদ-রকেটে লেনদেনের কড়াকড়ি শেষ: স্বাভাবিক ছন্দে ফিরল এমএফএস ও ডিজিটাল ব্যাংকিং

ব্যবসায় ১ মিনিট পড়া
বিকাশ-নগদ-রকেটে লেনদেনের কড়াকড়ি শেষ: স্বাভাবিক ছন্দে ফিরল এমএফএস ও ডিজিটাল ব্যাংকিং

ভোটের আমেজে অর্থের অপব্যবহার রুখতে নেওয়া ৯৬ ঘণ্টার বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করল বাংলাদেশ ব্যাংক; এখন থেকে আগের মতোই করা যাবে সব ধরনের অর্থ স্থানান্তর।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ডিজিটাল লেনদেনে গত চার দিন ধরে চলা সব ধরনের বিধিনিষেধের অবসান ঘটেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ১২টার পর থেকেই মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (MFS) এবং ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবাগুলো আগের মতো স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে। দেশের প্রধান এমএফএস সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বিকাশ, নগদ ও রকেটে অর্থ স্থানান্তরের ক্ষেত্রে যে সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল, তা এখন আর কার্যকর নেই।

স্বাভাবিক ছন্দে ডিজিটাল লেনদেন

নির্বাচনী উত্তাপের সময় বাজারে অর্থের অবৈধ প্রবাহ ও অপব্যবহার ঠেকাতে গত রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে ডিজিটাল লেনদেনে কড়াকড়ি আরোপ করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক (Central Bank)। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টা থেকে কার্যকর হওয়া এই বিধিনিষেধ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১১টা ৫৯ মিনিটে শেষ হয়েছে। অর্থাৎ টানা ৯৬ ঘণ্টা পর দেশের ‘Fintech’ বা আর্থিক প্রযুক্তি খাতের সেবাগুলো পুনরায় পূর্ণ গতিতে চালু হয়েছে।

এখন থেকে গ্রাহকরা তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী পিয়ার-টু-পিয়ার (P2P) লেনদেন করতে পারবেন। এছাড়া ব্যাংকিং অ্যাপের মাধ্যমে করা ফান্ড ট্রান্সফার বা ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবাগুলোতেও আর কোনো বাধা থাকছে না।

বিধিনিষেধের সময়কার চিত্র ও গ্রাহক ভোগান্তি

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, গত চার দিন এমএফএস গ্রাহকরা একবারে এক হাজার টাকার বেশি অর্থ পাঠাতে পারেননি। প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১০টি লেনদেনের সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে পি-টু-পি ইন্টারনেট ব্যাংকিং বা আইবিএফটি (IBFT) লেনদেন সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছিল। এতে জরুরি প্রয়োজনে অর্থ স্থানান্তরের ক্ষেত্রে সাধারণ গ্রাহক ও ছোট ব্যবসায়ীদের বেশ ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। তবে জনগণের সুবিধার্থে মার্চেন্ট পেমেন্ট এবং ইউটিলিটি বিল পরিশোধের মতো সেবাগুলো এই বিধিনিষেধের আওতামুক্ত রাখা হয়েছিল।

নিরাপত্তা ও নজরদারি ব্যবস্থা

নির্বাচনকালীন এই সময়ে ডিজিটাল অর্থ লেনদেনে কোনো ধরনের সন্দেহজনক তৎপরতা যেন না ঘটে, সেজন্য প্রতিটি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ ‘কুইক রেসপন্স সেল’ গঠনের নির্দেশ দিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ৯৬ ঘণ্টার এই বিশেষ পরিস্থিতিতে প্রতিটি ‘Digital Transaction’-এর ওপর ছিল কড়া নজরদারি। সন্দেহজনক বা অস্বাভাবিক বড় কোনো লেনদেন ধরা পড়লে তা তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত প্রেক্ষাপট

সফলভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পর ডিজিটাল অর্থনীতির এই স্বাভাবিক গতিতে ফেরা দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য ইতিবাচক বার্তা। বিশেষ করে বর্তমান স্মার্ট বাংলাদেশে যেখানে ‘Cashless’ বা নগদবিহীন লেনদেনের হার ক্রমেই বাড়ছে, সেখানে এমএফএস ও ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের এই স্বাভাবিকীকরণ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন প্রয়োজনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, নির্বাচনের গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে সাময়িকভাবে এই ‘Transaction Limit’ আরোপ করা হয়েছিল, যা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এখন থেকে দেশের সব ডিজিটাল পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম তাদের নিয়মিত নীতিমালা অনুযায়ী পরিচালিত হবে।

Tags: money transfer election 2026 central bank digital banking mfs bangladesh bkash nagad payment limits fintech news internet banking banking news