ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে দেশটির আদায়-কাঁচকলায় সম্পর্কের টানাপোড়েন এবার এক নতুন মোড় নিয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর হাতে আটক নিকোলাস মাদুরো এখনও ভেনেজুয়েলার একমাত্র ‘বৈধ প্রেসিডেন্ট’—এমনই এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন দেশটির বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এবং ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রদ্রিগেজের এই অবস্থান হোয়াইট হাউসের ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
‘মাদুরো ও ফার্স্ট লেডি সম্পূর্ণ নির্দোষ’
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি (NBC)-এর জনপ্রিয় টকশো ‘মিট দ্য প্রেস’-এ অংশ নিয়ে ডেলসি রদ্রিগেজ তার এই অবস্থান স্পষ্ট করেন। অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে তিনি বলেন, “আমি সরাসরি আপনাদের বলতে চাই, নিকোলাস মাদুরোই ভেনেজুয়েলার বৈধ রাষ্ট্রপ্রধান। আমি একজন পেশাদার আইনজীবী হিসেবেই এই আইনি ব্যাখ্যা দিচ্ছি। প্রেসিডেন্ট মাদুরো এবং ফার্স্ট লেডি সিলিয়া ফ্লোরেস—উভয়েই সম্পূর্ণ নির্দোষ।”
রদ্রিগেজ আরও উল্লেখ করেন যে, তিনি বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে যে দায়িত্ব পালন করছেন, সেটি নিছক একটি সাময়িক সাংবিধানিক প্রক্রিয়া বা Constitutional Mandate। এর মানে এই নয় যে, মাদুরোর শাসনতান্ত্রিক বৈধতা ফুরিয়ে গেছে।
ওয়াশিংটনের বন্দিশালা ও ভেনেজুয়েলার সংকট
চলতি বছরের জানুয়ারির শুরুতে একটি নাটকীয় সামরিক অভিযানের মাধ্যমে নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রীকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যায় মার্কিন বাহিনী। এরপর থেকেই ভেনেজুয়েলার ওপর ব্যাপক কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ বজায় রেখেছে ওয়াশিংটন। মাদুরোর দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহচর ডেলসি রদ্রিগেজ অবশ্য শুরু থেকেই দাবি করে আসছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলা পরিচালনা করার কোনো আইনি অধিকার রাখে না।
যদিও সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে তিনি ওয়াশিংটনের সঙ্গে সরাসরি কোনো সংঘাত বা Direct Confrontation এড়িয়ে চলেছেন, তবে গত ২৬ জানুয়ারির এক বিশাল জনসভায় তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন, “ভেনেজুয়েলা যুক্তরাষ্ট্রকে ভয় পায় না।”
ট্রাম্পের অবস্থান ও ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ
মাদুরোকে আটকের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্রই ভেনেজুয়েলা ‘পরিচালনা’ করবে। তবে আন্তর্জাতিক মহলের চাপের মুখে এবং কূটনৈতিক বাস্তবতায় পরবর্তীতে তিনি ডেলসি রদ্রিগেজকে দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন নেতা বা Interim Leader হিসেবে সমর্থন দেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রদ্রিগেজ একদিকে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করছেন, অন্যদিকে প্রকাশ্যে মাদুরোর প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করছেন—এটি একটি কৌশলগত চাল হতে পারে। এর মাধ্যমে তিনি যেমন দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা রক্ষা করতে চাইছেন, তেমনি বিশ্বমঞ্চে মাদুরোর গ্রেপ্তারের বিষয়টি যে ‘বেআইনি’, সেটিও প্রতিষ্ঠিত করতে চাচ্ছেন।
ভেনেজুয়েলার এই রাজনৈতিক সংকট এখন কোন দিকে মোড় নেয় এবং ওয়াশিংটন রদ্রিগেজের এই বক্তব্যের পর তাদের কৌশলে কোনো পরিবর্তন আনে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়। তবে রদ্রিগেজের এই ‘Legitimacy’ বা বৈধতা সংক্রান্ত মন্তব্য যে হোয়াইট হাউসের জন্য অস্বস্তির কারণ হবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।