• রাজনীতি
  • দেবিদ্বারে হাসনাত আব্দুল্লাহর ‘ক্লিন সুইপ’: সব বাধা মাড়িয়ে ইনসাফ প্রতিষ্ঠার ঘোষণা

দেবিদ্বারে হাসনাত আব্দুল্লাহর ‘ক্লিন সুইপ’: সব বাধা মাড়িয়ে ইনসাফ প্রতিষ্ঠার ঘোষণা

রাজনীতি ১ মিনিট পড়া
দেবিদ্বারে হাসনাত আব্দুল্লাহর ‘ক্লিন সুইপ’: সব বাধা মাড়িয়ে ইনসাফ প্রতিষ্ঠার ঘোষণা

১১৬টি কেন্দ্রের সব কটিতেই রেকর্ড জয় শাপলা কলি প্রতীকের এই সংগঠকের; প্রতিপক্ষের ‘মহাজোট’ রুখে দিয়ে জনতার আস্থাকেই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি বলে আখ্যা।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে এক অভূতপূর্ব ও ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করেছেন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও এনসিপির (NCP) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ। কেবল জয় নয়, আসনটির ১১৬টি ভোটকেন্দ্রের প্রতিটিতেই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে বিপুল ব্যবধানে হারিয়ে এক অনন্য রেকর্ড (Record) সৃষ্টি করেছেন তিনি। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের পর এক আবেগঘন পরিবেশে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি শুনিয়েছেন আগামীর নতুন সংকল্প।

জনতা বনাম সম্মিলিত শক্তির লড়াই

নির্বাচনী লড়াইকে হাসনাত আব্দুল্লাহ কেবল একজন প্রার্থীর বিরুদ্ধে সাধারণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা হিসেবে দেখেননি। তাঁর ভাষ্যমতে, এই নির্বাচন ছিল প্রচলিত শক্তিশালী রাজনৈতিক ও অশুভ শক্তির সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম। হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, “এই নির্বাচন ছিল হাসনাত আব্দুল্লাহ বনাম বিএনপি, আওয়ামী লীগ, ভারত, লুটেরা ব্যবসায়ী, চাঁদাবাজ, মাদক সম্রাট আর ভূমিদস্যুদের এক অলিখিত জোটের বিরুদ্ধে লড়াই। কিন্তু আমার সাথে ছিল সাধারণ জনতা। দিন শেষে জনতার আস্থাই এখানে বিজয় অর্জন করেছে।”

এই মন্তব্যকে বিশ্লেষকরা দেখছেন তৃণমূলের ক্ষোভ ও প্রচলিত রাজনৈতিক ব্যবস্থার পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা হিসেবে, যেখানে ‘পিপলস ম্যান্ডেট’ (People's Mandate) বা গণআকাঙ্ক্ষা সব প্রভাবশালী সমীকরণকে ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছে।

ইনসাফ ও সামগ্রিক উন্নয়নের অঙ্গীকার

বিজয়ী হওয়ার পর প্রতিশোধের রাজনীতির পরিবর্তে ‘ইনসাফ’ বা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন হাসনাত। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এলাকায় শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখাই হবে তাঁর প্রধান অগ্রাধিকার। এনসিপির এই প্রভাবশালী নেতা বলেন, “আমি জয় পেয়েছি, এখন এলাকায় ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে চাই। এমনকি শত্রুর সাথেও ন্যায়বিচার করা হবে। দেবিদ্বারের সামগ্রিক উন্নয়নে কাজ করে আমি এই জনপদকে একটি মডেল এলাকায় পরিণত করতে চাই।”

নির্বাচনী পরিসংখ্যান ও রেকর্ড জয়

কুমিল্লা-৪ আসনের নির্বাচনী ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, হাসনাত আব্দুল্লাহর ‘শাপলা কলি’ প্রতীকের জোয়ারে অন্য সব প্রার্থী তলিয়ে গেছেন। বেসরকারি ফলাফলে দেখা গেছে, হাসনাত আব্দুল্লাহ পেয়েছেন ১ লাখ ৭২ হাজার ভোট। অন্যদিকে তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী জসীমউদ্দীন পেয়েছেন মাত্র ২৬ হাজার ভোট। সব কটি কেন্দ্রে জয়লাভের এই ঘটনাকে নির্বাচনী বিশেষজ্ঞরা ‘ক্লিন সুইপ’ (Clean Sweep) হিসেবে অভিহিত করছেন।

তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া

দেবিদ্বারের সাধারণ ভোটাররা হাসনাত আব্দুল্লাহর এই বিশাল জয়কে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, নতুন এই জনপ্রতিনিধি কেবল প্রতিশ্রুতি নয়, বরং শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থান (Job Creation) বৃদ্ধিতে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেবেন। বিশেষ করে এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির আধুনিকায়ন ও মাদক নির্মূলে হাসনাত আব্দুল্লাহর কঠোর অবস্থানকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন তারা।