• আন্তর্জাতিক
  • 'ইরানে শাসন পরিবর্তনই সেরা সমাধান': তেহরানে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের ডাক দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে রণতরী পাঠাচ্ছেন ট্রাম্প

'ইরানে শাসন পরিবর্তনই সেরা সমাধান': তেহরানে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের ডাক দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে রণতরী পাঠাচ্ছেন ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
'ইরানে শাসন পরিবর্তনই সেরা সমাধান': তেহরানে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের ডাক দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে রণতরী পাঠাচ্ছেন ট্রাম্প

৪৭ বছরের সংঘাত ও প্রাণহানির ইতি টানতে কঠোর বার্তা মার্কিন প্রেসিডেন্টের; উত্তেজনার মধ্যেই পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে নতুন করে আলোচনায় বসার শর্ত দিলেন ডনাল্ড ট্রাম্প।

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে (Geopolitics) নতুন করে কম্পন সৃষ্টি করে ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনকেই ‘সেরা সমাধান’ হিসেবে অভিহিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তেহরানের সঙ্গে দীর্ঘ চার দশকের বেশি সময় ধরে চলা বৈরী সম্পর্কের অবসান ঘটাতে হোয়াইট হাউস এখন বিকল্প নেতৃত্বের কথা ভাবছে বলে স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। ওয়াশিংটনের এই অবস্থান একদিকে যেমন কূটনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধির ঘোষণা যুদ্ধের দামামাকে আরও ঘনীভূত করেছে।

‘৪৭ বছরের ব্যর্থতা’: ট্রাম্পের কড়া হুঙ্কার

স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে ডনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “বিগত ৪৭ বছর ধরে তারা (ইরান) শুধু লম্বা চওড়া কথাই বলে যাচ্ছে। এই দীর্ঘ সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে আমরা অনেক মূল্যবান প্রাণ হারিয়েছি। এখন সময় এসেছে পরিবর্তনের।” ট্রাম্পের মতে, ইরানে শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তন বা ‘Regime Change’ হতে পারে এই দীর্ঘস্থায়ী সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান।

যদিও ইরানের বর্তমান নেতৃত্বের বিকল্প হিসেবে তিনি নির্দিষ্ট কোনো নাম বা গোষ্ঠীর কথা উল্লেখ করেননি, তবে তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানান যে, সেখানে এমন যোগ্য ব্যক্তিরা রয়েছেন যারা দেশটির হাল ধরতে সক্ষম। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এই মন্তব্যের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন হচ্ছে বিশ্বের সর্বাধুনিক রণতরী

কূটনৈতিক চাপের পাশাপাশি তেহরানকে সামরিকভাবে কোণঠাসা করার কৌশল নিয়েছে পেন্টাগন (Pentagon)। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, বিশ্বের বৃহত্তম এবং যুক্তরাষ্ট্রের সর্বাধুনিক বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’ (USS Gerald R. Ford) খুব শীঘ্রই ক্যারিবিয়ান অঞ্চল থেকে মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবে। নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ (Truth Social) দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের একটি প্রতিবেদন শেয়ার করে তিনি সামরিক এই প্রস্তুতির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে দ্বিতীয় একটি বিমানবাহী রণতরী (Aircraft Carrier) মোতায়েন করার অর্থ হলো ইরানকে চরম সতর্কবার্তা দেওয়া। গত জানুয়ারিতে ইরানে সরকারবিরোধী গণবিক্ষোভ দমনে কঠোর অবস্থান নেওয়ার পর থেকেই তেহরান-ওয়াশিংটন সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়।

পারমাণবিক চুক্তি ও ইসরায়েল ফ্যাক্টর

সম্প্রতি হোয়াইট হাউসে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, তিনি তেহরানের সঙ্গে আলোচনার পথ খোলা রাখতে চান। তবে শুক্রবার তিনি পরিষ্কার করে দেন যে, ইরান যদি হামলা এড়াতে চায় তবে তাদের অবিলম্বে একটি নতুন ‘Nuclear Deal’ বা পারমাণবিক চুক্তিতে আসতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের মূল দাবি হলো, ইরানকে তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে। অন্যদিকে, ইসরায়েল দাবি করছে—তেহরানকে তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বন্ধ করতে হবে এবং হামাস ও হিজবুল্লাহর মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করতে হবে।

নতি স্বীকার করবে না তেহরান: প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান

যুক্তরাষ্ট্রের এই কঠোর অবস্থানের বিপরীতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা (Sanctions) প্রত্যাহারের বিনিময়ে তারা পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করতে প্রস্তুত থাকলেও কোনো ‘অতিরিক্ত দাবির’ কাছে নতি স্বীকার করবেন না।

প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথম মেয়াদে ট্রাম্প ওবামা আমলের ঐতিহাসিক পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে বের করে নিয়ে এসেছিলেন এবং ইরানের ওপর ‘ম্যাক্সিমাম প্রেশার’ (Maximum Pressure) পলিসি প্রয়োগ করেছিলেন। বর্তমানে পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্পের এই আক্রমণাত্মক অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

Tags: middle east donald trump white house ayatollah khamenei global politics nuclear deal iran regime uss ford