দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় মেগাস্টার ধানুশ এবার এক বড়সড় আইনি সংকটে পড়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা একটি চলচ্চিত্রের কাজ শেষ না করা এবং প্রযোজনা সংস্থার সঙ্গে চুক্তিভঙ্গের অভিযোগে অভিনেতার কাছে ২০ কোটি রুপির ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে। জনপ্রিয় প্রযোজনা সংস্থা থেনান্ডাল ফিল্মস (Thenandal Films) এই আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে জানা গেছে।
আট বছরের দীর্ঘ প্রতিক্ষা ও ‘নান রুদ্রন’ বিতর্ক তামিল সংবাদমাধ্যম ‘ওয়ানইন্ডিয়া তামিল’-এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বিবাদের সূত্রপাত ২০১৬ সালে। সে সময় ‘নান রুদ্রন’ (Nan Rudran) নামক একটি উচ্চাভিলাষী প্রজেক্টে অভিনয়ের পাশাপাশি পরিচালনার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন ধানুশ। কিন্তু দীর্ঘ ৮ বছর পেরিয়ে গেলেও সেই ছবির শুটিং বা পোস্ট-প্রডাকশনের কাজ শেষ করতে পারেননি তিনি। প্রযোজনা সংস্থার দাবি, ধানুশের খামখেয়ালিপনা এবং অপেশাদারিত্বের কারণেই প্রজেক্টটি আলোর মুখ দেখছে না।
২০ কোটির আর্থিক ক্ষতির খতিয়ান প্রযোজনা সংস্থাটির পক্ষ থেকে তাদের লিগ্যাল অ্যাডভাইজরের (Legal Advisor) মাধ্যমে পাঠানো নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ধানুশ এই প্রজেক্টের জন্য অভিনয় ও পরিচালনা—উভয় ক্ষেত্রেই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রযোজনা সংস্থাটি বড় অংকের বিনিয়োগও করেছিল। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ধানুশের কথা অনুযায়ী এই ছবিতে নাগার্জুন আক্কিনেনি এবং এসজে সূর্যের মতো তারকাদের কাস্ট করা হয়েছিল, যার পেছনে ইতিমধ্যে ২০ কোটি রুপি খরচ হয়ে গেছে।
চিত্রনাট্য নিয়ে গড়িমসি ও চুক্তিভঙ্গের অভিযোগ থেনান্ডাল ফিল্মসের অভিযোগ, ধানুশ বারবার প্রতিশ্রুতি দিয়েও সিনেমার সম্পূর্ণ চিত্রনাট্য বা ‘Full Script’ জমা দেননি। ফলে প্রোডাকশন হাউজটি চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যায়। অভিযোগ আরও গুরুতর হয়ে ওঠে যখন জানা যায় যে, এই ছবির কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই ধানুশ অন্য বড় বড় প্রজেক্টের জন্য নিয়মিত সময় দিচ্ছেন এবং নতুন ছবিতে সাইন করছেন। এই ধরণের ‘Professional Negligence’ বা পেশাগত অবহেলার কারণে বিপুল আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন নির্মাতারা।
পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ ও ধানুশের নিরবতা প্রযোজনা সংস্থাটি তাদের নোটিশে সাফ জানিয়ে দিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ক্ষতিপূরণ পরিশোধ না করা হলে বা প্রজেক্টের কাজ নিয়ে সন্তোষজনক সমাধান না আসলে তারা পরবর্তী কঠোর আইনি ব্যবস্থা বা ‘Legal Proceedings’ শুরু করবে। দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্র অঙ্গনে এই ঘটনা বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে, কারণ ধানুশ কেবল একজন অভিনেতা নন, বরং একজন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত পরিচালক ও প্রযোজকও বটে।
তবে এই আইনি নোটিশের বিষয়ে ধানুশের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি বা পিআর ক্লারিফিকেশন (PR Clarification) পাওয়া যায়নি। ভক্তদের আশঙ্কা, এই আইনি লড়াই দীর্ঘায়িত হলে ধানুশের আসন্ন প্রজেক্টগুলোতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।