পটুয়াখালীর বাউফলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে এক কৃষকদল নেতার বাড়িতে বর্বরোচিত হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এতে ওই পরিবারের সদস্যরা বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
হামলার বিবরণ ও ক্ষয়ক্ষতি ভুক্তভোগী রমিজ দর্জির অভিযোগ অনুযায়ী, নির্বাচনে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী জয়ী হওয়ার পর থেকেই স্থানীয় জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা তার ওপর ক্ষুব্ধ ছিল। শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে স্থানীয় জামায়াত নেতা আব্দুর রব ও তসলিম মৃধার নেতৃত্বে প্রায় ১৫০ জন লোক রামদা, লাঠিসোঁটাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা ঘরে ঢুকে রমিজ দর্জিকে খুঁজতে থাকে এবং ব্যাপক ভাঙচুর চালায়।
রমিজের স্ত্রী লাইজু বেগম জানান, হামলাকারীরা তার গলায় রামদা ঠেকিয়ে রমিজের খোঁজ করে এবং তাকে হত্যার হুমকি দেয়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, সন্ত্রাসীরা ঘর থেকে নগদ ২ লাখ টাকা, ২ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, একটি এলইডি টেলিভিশন এবং স্মার্টফোনসহ মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নিয়ে গেছে।
আগেও হামলার শিকার পরিবারটি এটিই প্রথম নয়, এর আগে নির্বাচনের আগের দিন রমিজ দর্জির বড় ছেলে রায়হানকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছিল। তিনি বর্তমানে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া বাউফল উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. তসলিম তালুকদার এই ঘটনাকে ‘মধ্যযুগীয় বর্বরতা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "নির্বাচনে জয়ের পর জামায়াত-শিবির পুরো উপজেলায় নৃশংসতা চালাচ্ছে। আমাদের দলীয় নেতার বাড়িতে হামলা হলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।"
অন্যদিকে, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. খালেদুর রহমান এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, "এ ধরনের কোনো ঘটনার খবর আমাদের কাছে নেই। বিজয়ের পর নেতাকর্মীদের শান্ত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেউ আমাদের নাম ব্যবহার করে এসব করছে কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার।"
পুলিশের বক্তব্য বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিদ্দিকুর রহমান জানিয়েছেন, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।