আসন্ন অমর একুশে বইমেলা রমজান মাসের বদলে ঈদের পরে আয়োজনের দাবি জানিয়েছে প্রকাশকদের সংগঠন ‘প্রকাশক ঐক্য’। দেশের প্রকাশনা শিল্পকে রক্ষা এবং বর্তমান পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে একটি খোলা চিঠি পাঠিয়েছে তারা।
রমজানে মেলা আয়োজনে উদ্বেগ প্রকাশকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে মেলা শুরু করার যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে তারা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, রমজান মাসে স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকে। এর ফলে মেলায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নগণ্য হয়ে পড়বে এবং মেলা কার্যত পাঠকশূন্য হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ব্যবসায়িক আত্মহত্যার সমান প্রকাশক ঐক্যের দাবি অনুযায়ী, দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ প্রকাশক মনে করছেন রমজান মাসে মেলায় অংশগ্রহণ করা তাদের জন্য ‘ব্যবসায়িক আত্মহত্যা’র সমান হবে। ইতোমধ্যে মূলধারার প্রায় তিন শতাধিক প্রকাশক এই সময়ে মেলায় অংশ নিতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন। চিঠিতে আরও বলা হয়, গত দেড় বছরের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং কাগজের আকাশচুম্বী দামের কারণে প্রকাশনা শিল্প বর্তমানে চরম সংকটে রয়েছে।
বাংলা একাডেমির অবস্থানের সমালোচনা নির্বাচনকেন্দ্রিক ব্যস্ততার কারণে গত কয়েক মাস ছাপাখানাগুলো বন্ধ থাকায় নতুন বই প্রকাশের কাজও স্থবির হয়ে আছে। এমন পরিস্থিতিতে বাংলা একাডেমি কেন মেলা আয়োজনে অনড় অবস্থান নিয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রকাশকরা। তারা স্পষ্ট করেছেন যে, তারা মেলা বর্জন করতে চান না; বরং একটি উৎসবমুখর ও সফল মেলা চান।
তারেক রহমানের কাছে দুই দফা দাবি নতুন সরকারের কাছে প্রকাশকদের প্রধান দুটি দাবি হলো: ১. ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে নির্ধারিত বইমেলা স্থগিত করা। ২. পবিত্র ঈদুল ফিতরের পর উৎসবমুখর পরিবেশে পূর্ণাঙ্গ বইমেলার আয়োজন করা।
প্রকাশকরা আশা করছেন, সরকার এই যৌক্তিক দাবি মেনে নিয়ে প্রকাশনা শিল্পকে বড় ধরনের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করবে এবং অমর একুশে বইমেলার ঐতিহ্য বজায় রাখবে।