ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে বিএনপির বিশাল জয়ে শুকরিয়া আদায় ও প্রার্থনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর রমনা কালী মন্দির প্রাঙ্গণে শ্রী শ্রী রমনা কালী মন্দির ও শ্রীমা আনন্দময়ী আশ্রম পরিচালনা কমিটির উদ্যোগে এই বিশেষ সভার আয়োজন করা হয়।
জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে ঐতিহাসিক নির্বাচন অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে অপর্ণা রায় দাস বলেন, এবারের নির্বাচনে দেশের মানুষ যেভাবে উৎসবে মেতেছিল, তা বিগত কয়েক দশকে দেখা যায়নি। বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন নির্বাচন এখন পর্যন্ত দ্বিতীয়টি হয়নি। তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনের প্রতি জনগণের এই প্রবল আগ্রহ প্রমাণ করে তারা একটি গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের জন্য কতটা মুখিয়ে ছিলেন। জাতীয়তাবাদী শক্তির এই ঐতিহাসিক জয়কে তিনি নির্দিষ্ট কোনো দলের নয়, বরং সাধারণ মানুষের জয় হিসেবে বর্ণনা করেন।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও আগামীর বাংলাদেশ অপর্ণা রায়, যিনি শ্রী শ্রী রমনা কালী মন্দিরেরও সভাপতি, তিনি তার বক্তব্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, নতুন সরকারের অধীনে বাংলাদেশের সকল ধর্মের মানুষ সমান অধিকার ও নিরাপত্তা নিয়ে বসবাস করবে। এই বিজয়কে কেন্দ্র করে সারাদেশে যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে, তা যেন সংঘাতমুক্ত এবং শান্তিপূর্ণ থাকে সেই আহ্বানও জানান তিনি।
উপস্থিত নেতৃবৃন্দ প্রার্থনা সভায় দেশের বিশিষ্ট ধর্মীয় ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন বাংলাদেশ হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান তপন মজুমদার, ট্রাস্টি নিবাস চন্দ্র মাঝি, এবং হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি নিমচন্দ্র ভৌমিক। এছাড়াও বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য রমেশ দত্ত, জাসাস কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুভাষ চন্দ্র দাসসহ গৌরাঙ্গ সমাদ্দার, উত্তম সরকার এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের বিশিষ্ট প্রতিনিধিরা এই সভায় অংশগ্রহণ করেন।
বক্তারা আগামী দিনে একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে নবনির্বাচিত সরকারের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ও সহযোগিতার আশ্বাস ব্যক্ত করেন।