• রাজনীতি
  • নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ: হাইকোর্টে রিট করার সিদ্ধান্ত ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের

নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ: হাইকোর্টে রিট করার সিদ্ধান্ত ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের

ভোট পুনঃগণনার সুযোগ না থাকায় আইনি লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত; ৩০টির বেশি আসনে কারচুপির অভিযোগে ইসি যাবে জোটটি

রাজনীতি ১ মিনিট পড়া
নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ: হাইকোর্টে রিট করার সিদ্ধান্ত ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন আসনে ভোট কারচুপির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে এবং আইনি সুরাহা পেতে উচ্চ আদালতে রিট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য জোট। শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে জোটের নেতারা এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। নির্বাচনের পর দ্রুততম সময়ে গেজেট প্রকাশ করায় ভোট পুনঃগণনার সুযোগ হারানো প্রার্থীদের অধিকার রক্ষায় তারা এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল এবং নির্বাচন পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনায় বসেছিল ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য জোট। বৈঠকে নির্বাচনের ফলাফলে জালিয়াতি, ভোটকেন্দ্র দখলসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

হাইকোর্টে রিটের প্রেক্ষাপট বৈঠক শেষে জোটের লিয়াজোঁ কমিটির মিডিয়া সমন্বয়ক এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানান, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের পর ১৩ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে অত্যন্ত দ্রুততার সাথে গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। এর ফলে যেসব আসনে কারচুপি হয়েছে, সেখানে আরপিও অনুযায়ী পুনঃগণনার সুযোগ থেকে প্রার্থীরা বঞ্চিত হয়েছেন। প্রার্থীরা যেন তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পান, সেজন্যই উচ্চ আদালতে রিট করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ৩০টিরও বেশি আসনে কারচুপির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নিয়ে ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশনে যাওয়ার সিদ্ধান্তও নিয়েছে জোটের নেতারা।

জুলাই সনদ ও রাজনৈতিক অবস্থান বৈঠকে 'জুলাই সনদ' বাস্তবায়নের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। নেতারা জানান, গণভোটে 'হ্যাঁ' জয়ী হওয়ায় সংসদের উচ্চকক্ষে ১০০ আসনে রাজনৈতিক দলগুলো প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে আসন পাবে। এটি জনগণের রায় এবং এখানে কোনো দলের 'নোট অব ডিসেন্ট' বা ভিন্নমতের সুযোগ নেই। সংসদ অধিবেশন শুরু হওয়ার ১৮০ দিনের মধ্যে পর্যায়ক্রমে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি জানায় ১১ দলীয় ঐক্য।

সহিংসতা ও ভবিষ্যৎ কর্মসূচি নির্বাচনকালীন ও পরবর্তী সময়ে জোটের নারী কর্মীসহ নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় বৈঠকে তীব্র নিন্দা জানানো হয়। নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, রাজনৈতিক সহিংসতা বন্ধ না হলে জনগণকে সাথে নিয়ে রাজপথে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। একই সাথে ফ্যাসিবাদীদের সাথে কোনো প্রকার আঁতাত না করে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার আহ্বান জানান তারা।

১১ দলীয় ঐক্য জোট কেবল নির্বাচনের জন্য নয়, বরং আগামী দিনে সংসদের ভেতরে ও বাইরে ঐক্যবদ্ধভাবে ভূমিকা রাখবে বলে বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

Tags: bangladesh election bangladesh politics jamaat-e-islami 11-party alliance high court writ election rigging