আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেছেন যে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে তার মন্ত্রণালয় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি সমালোচকদের উদ্দেশ্যে বলেন, "ভাই, আমি কিছু করিনি। করেছে আমাদের আইন মন্ত্রণালয়। তবে এর প্রতিটি কাজে আমি অংশীদার ছিলাম।" তার দেওয়া তথ্যমতে, গত দেড় বছরে ২২টি আইনি সংস্কার এবং ১৫টি প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার সম্পন্ন হয়েছে।
আইনি সংস্কার ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান আইন উপদেষ্টা জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল অধদেশ সংশোধন করে গুমকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের সুরক্ষা দিতে বিশেষ অধদেশ জারি করা হয়েছে। সাইবার নিরাপত্তা আইনের মতো নিপীড়নমূলক আইন বাতিল করে ‘সাইবার সুরক্ষা অধদেশ, ২০২৫’ প্রণয়ন করা হয়েছে।
মামলা প্রত্যাহার ও বিচার বিভাগীয় সংস্কার বিগত সরকারের আমলে দায়ের করা প্রায় ২৪ হাজার ২৭৬টি রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এছাড়া সুপ্রিম কোর্টে বিচারক নিয়োগের জন্য মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে একটি স্বতন্ত্র জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠনের বিধান করা হয়েছে। বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতার জন্য গঠন করা হয়েছে পৃথক সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়।
জনবান্ধব ডিজিটাল সেবা প্রবাসীদের সুবিধার্থে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বিধিমালা সহজ করা হয়েছে। এখন থেকে বৈধ পাসপোর্ট না থাকলেও এনআইডি বা জন্মসনদ দিয়ে প্রবাসীরা জমি সংক্রান্ত কাজ করতে পারবেন। এছাড়া অনলাইনে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনের ব্যবস্থা এবং পারিবারিক আদালতের কার্যক্রমকে ডিজিটাল করতে ‘ই-ফ্যামিলি কোর্ট’ চালু করা হয়েছে।
বিচারের গতি ও প্রশাসনিক সক্রিয়তা আসিফ নজরুল দাবি করেন, তার আমলে মন্ত্রণালয়ের নথিপত্র নিষ্পত্তির গতি গত সরকারের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। রেকর্ডসংখ্যক ৫ হাজার ৫০০ জন নতুন আইন কর্মকর্তা এবং সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগে পর্যাপ্ত বিচারক নিয়োগে মন্ত্রণালয় সাচিবিক সহায়তা দিয়েছে। স্ট্যাটাসের শেষে তিনি জানান, শিগগিরই প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে তার কাজের হিসাবও জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে।