ক্যাম্পাসজুড়ে রঙের খেলা শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য সবসময়ই অনন্য। তবে বসন্তের আগমনে এই সৌন্দর্য যেন পূর্ণতা পেয়েছে। ক্যাম্পাসের প্রধান ফটক থেকে শুরু করে দৃষ্টিনন্দন কিলোরোড, গ্রন্থাগার ভবন এবং বিভিন্ন অ্যাকাডেমিক ভবনের সামনে এখন ফুলের রাজত্ব। চন্দ্রমল্লিকা, ডায়ান্থাস, পেটুনিয়া, বাগানবিলাস, স্যালভিয়া এবং গাঁদা ফুলের প্রাণবন্ত উপস্থিতি পুরো ক্যাম্পাসকে এক টুকরো স্বর্গে পরিণত করেছে। শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষার ব্যস্ততার ফাঁকে এই রঙিন পরিবেশে মেতে উঠছেন আড্ডা আর ছবি তোলায়।
শিক্ষার্থীদের অনুভূতি ও মানসিক প্রশান্তি ক্যাম্পাসের এই রঙিন রূপ শিক্ষার্থীদের মনে জোগাচ্ছে বিশেষ প্রাণশক্তি। সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী উম্মে সাদিয়া তাবাসসুম জানান, ফুলের এই সৌন্দর্য কেবল চোখের তৃপ্তি দেয় না, বরং মানসিক চাপ কমিয়ে মনে প্রশান্তি আনে। বিশেষ করে লাগাতার পরীক্ষা ও ক্লাসের চাপের মাঝে প্রকৃতির এই সান্নিধ্য শিক্ষার্থীদের জন্য ওষুধের মতো কাজ করে। অনেক শিক্ষার্থীই বসন্তের এই স্নিগ্ধ রূপকে ফ্রেমবন্দি করতে ভিড় করছেন বাগানগুলোর সামনে।
উন্নয়ন কাজের ধুলাবালিতে অস্বস্তি বসন্তের এই স্নিগ্ধতার মাঝেই ক্যাম্পাসের পরিবেশ নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৭টি ছোট-বড় প্রকল্পের নির্মাণকাজ চলমান থাকায় ক্যাম্পাসজুড়ে ধুলাবালির উপদ্রব বেড়েছে। এতে করে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ম্লান হওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে। পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী সজিব আহমেদ রবিন বলেন, উন্নয়ন কাজের জন্য সৃষ্ট ধুলাবালি পরিবেশ নষ্ট করছে। প্রশাসনের উচিত নিয়মিত পানি ছিটিয়ে পরিবেশকে বাসযোগ্য রাখা।
প্রকৃতি ও উন্নয়নের সমন্বয় প্রকৃতিপ্রেমী শিক্ষার্থীদের দাবি, উন্নয়নের পাশাপাশি ক্যাম্পাসের পরিবেশ রক্ষা করাও জরুরি। একদিকে যখন বসন্তের ফুল সুবাস ছড়াচ্ছে, অন্যদিকে নির্মাণকাজের ধুলা সেই আনন্দকে কিছুটা বাধাগ্রস্ত করছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে ধুলার সমস্যার সমাধান হলে বসন্তের এই সৌন্দর্য আরও উপভোগ্য হবে বলে মনে করছেন শাবিপ্রবির শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।