সদ্য ঘোষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী, কুমিল্লা থেকে রেকর্ড ষষ্ঠবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি নেতা ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ। এই জয়ের মধ্য দিয়ে তিনি কুমিল্লার রাজনীতির ইতিহাসে পূর্ববর্তী সকল রেকর্ড ভেঙে নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করেছেন।
ভোটের ব্যবধান ও জনসমর্থন নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, কায়কোবাদ ১ লাখ ৫৯ হাজার ভোট পেয়ে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ইউসুফ সোহেলকে পরাজিত করেছেন। সোহেল পেয়েছেন ১ লাখ ৯ হাজার ভোট। ৫০ হাজারেরও বেশি ভোটের এই বিশাল ব্যবধান কায়কোবাদের রাজনৈতিক প্রভাব ও জনভিত্তিকে পুনরায় নিশ্চিত করেছে। জীবনের এই পর্যায়ে এসেও ভোটারদের এই ব্যাপক সাড়া তাকে আবেগাপ্লুত করেছে।
কুমিল্লার নির্বাচনী ইতিহাস ও কায়কোবাদ কুমিল্লার সংসদীয় ইতিহাসে এর আগে কোনো নেতা ছয়বার সংসদ সদস্য হতে পারেননি। পরিসংখ্যান বলছে, এর আগে আওয়ামী লীগের অধ্যাপক আলী আশরাফ এবং সাবেক রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক মুজিব পাঁচবার করে নির্বাচিত হয়েছিলেন। এ ছাড়া ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, এমকে আনোয়ার এবং আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারের মতো হেভিওয়েট নেতারা চারবার করে নির্বাচিত হওয়ার রেকর্ড গড়েছিলেন। কায়কোবাদ এবার সেই সব রেকর্ড ছাপিয়ে কুমিল্লার ইতিহাসে প্রথম ব্যক্তি হিসেবে ষষ্ঠবারের মতো সংসদে যাওয়ার গৌরব অর্জন করলেন।
রাজনৈতিক পথচলা ও দীর্ঘ লড়াই কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদের রাজনৈতিক জীবন অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়। তিনি ১৯৮৬ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রথমবার সংসদ সদস্য হন। এরপর ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টির মনোনয়নে দ্বিতীয়বার নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে তৃতীয়বার এবং বিএনপির মনোনয়নে ২০০১ ও ২০০৮ সালে যথাক্রমে চতুর্থ ও পঞ্চমবারের মতো বিজয়ী হন। সর্বশেষ ২০২৬ সালের নির্বাচনে তিনি ষষ্ঠবারের মতো জয়ী হলেন।
নির্বাসন কাটিয়ে রাজকীয় প্রত্যাবর্তন বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিভিন্ন রাজনৈতিক জটিলতা ও ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার কারণে দীর্ঘ সময় বিদেশে নির্বাসনে কাটাতে হয়েছে এই নেতাকে। তবে প্রতিকূল পরিবেশ এবং দীর্ঘ অনুপস্থিতি সত্ত্বেও নির্বাচনী ময়দানে ফিরে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ভালোবাসায় তিনি সিক্ত হয়েছেন। এলাকার উন্নয়ন এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার প্রতিশ্রুতিই তাকে এই ঐতিহাসিক জয় এনে দিয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় বিশ্লেষকরা।