মানিকগঞ্জে জনপ্রিয় চিত্রনায়ক ওমর সানীর মালিকানাধীন রেস্তোরাঁ ‘চাপওয়ালার শ্বশুর বাড়ি’ (বাংলা হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট)-এ এক ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। রেস্তোরাঁর কর্মচারীদের হাতে এক গ্রাহককে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলছে।
প্রতিবাদের মাশুল: যেভাবে শুরু ঘটনার
ভুক্তভোগী মো. আতিকুর রহমান খানের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক আটটার দিকে আতিকুর তার ৪-৫ জন বন্ধুকে নিয়ে মানিকগঞ্জ সদর এলাকায় অবস্থিত ওই রেস্তোরাঁয় নৈশভোজ করতে যান। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, খাবারের অর্ডার দিয়ে অপেক্ষা করার সময় রেস্তোরাঁর এক কর্মী সেখানে উপস্থিত কয়েকজন নারী ক্রেতার সাথে অত্যন্ত ‘অশোভন আচরণ’ (Misbehavior) শুরু করেন।
নারীদের হেনস্তা হতে দেখে আতিকুর ও তার বন্ধুরা এগিয়ে যান এবং প্রতিবাদ জানান। এতে রেস্তোরাঁর কর্মীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। মুহূর্তের মধ্যেই বাগবিতণ্ডা চরম রূপ নেয় এবং রেস্তোরাঁর কর্মচারীরা সংঘবদ্ধ হয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে গ্রাহকদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন।
রড ও চাপাতি দিয়ে বর্বরোচিত হামলা
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্তরা লোহার রড, হাতুড়ি, চাপাতি, ধারালো ছুরি, কুড়াল, বেলচা ও বাঁশের লাঠি নিয়ে আতিকুর ও তার বন্ধুদের ওপর আক্রমণ চালায়। এই নৃশংস হামলায় আতিকুর রক্তাক্ত ও গুরুতর জখম হন। তাকে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এই ঘটনায় আতিকুরের চাচা মো. খলিলুল রহমান খান বাদল বাদী হয়ে মানিকগঞ্জ সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। মামলায় মো. ইমরান (২৪), মো. লিখন (২২), হাসান (২৭), জীবন (২৫), মুন্না (২২) ও মঞ্জুর (২৬)-সহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
নিজ প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বিরুদ্ধেই সোচ্চার ওমর সানী
নিজের রেস্তোরাঁয় এমন ন্যক্কারজনক ঘটনার খবর পেয়ে বিচলিত হয়ে পড়েন চিত্রনায়ক ওমর সানী। তিনি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। গণমাধ্যমের সাথে আলাপকালে সানী জানান, মূল অভিযুক্ত লিখনকে কয়েকদিন আগেই ‘ম্যানপাওয়ার’ (Manpower) সংকটের কারণে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।
ওমর সানী বলেন, "লিখন নামের ওই ছেলেটির স্বভাব-চরিত্র আগে থেকেই সন্দেহজনক ছিল। সে সম্ভবত মাদকাসক্ত ছিল এবং তার আচরণে বিচ্যুতি ছিল। একজন সম্মানিত কাস্টমারের সঙ্গে কেন এমন আচরণ করা হলো, তা আমার বোধগম্য নয়।" তিনি আরও যোগ করেন যে, ঘটনা শোনার পরপরই তিনি নিজে উদ্যোগী হয়ে পুলিশ ও দায়িত্বরত সেনাসদস্যদের (Law Enforcement Agencies) ফোন করে বিষয়টি অবহিত করেন। তার নির্দেশেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
আইনি ব্যবস্থা ও বর্তমান পরিস্থিতি
ঘটনার সময় রেস্তোরাঁর ‘ম্যানেজমেন্ট’ (Management) স্তরের প্রধান ম্যানেজার কিরণ খান উপস্থিত ছিলেন না বলে জানা গেছে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছে।
মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকরাম হোসেন সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যে মামলা রুজু করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য বিশ্লেষণ করে আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে রেস্তোরাঁ প্রাঙ্গণে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।