বলিউডের জনপ্রিয় কমেডিয়ান রাজপাল যাদবের জীবনে অবশেষে স্বস্তির নিশ্বাস। দীর্ঘ আইনি লড়াই এবং কারাবাসের পর চেক বাউন্স মামলায় জামিন পেলেন এই অভিনেতা। দিল্লির হাইকোর্ট তাঁর জামিন মঞ্জুর করলেও জুড়ে দিয়েছিল এক কঠিন শর্ত। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ জমা দিয়েই কারামুক্তির ছাড়পত্র পেলেন তিনি।
জামিনের শর্ত ও আদালতের কড়া সময়সীমা রাজপাল যাদবের জামিন আবেদনের শুনানিতে আদালত অত্যন্ত কড়া অবস্থান গ্রহণ করে। হাইকোর্টের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়, জামিন পেতে হলে অভিনেতাকে দেড় কোটি টাকার ‘ডিমান্ড ড্রাফট’ (Demand Draft) জমা দিতে হবে। শুধু তাই নয়, এই অর্থ জমা দেওয়ার জন্য দুপুর ৩টে পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন বিচারক। আইনি জটিলতা কাটিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই সেই শর্ত পূরণ করেন অভিনেতার আইনজীবীরা। বিপুল অংকের এই অর্থ জমা পড়ার পরই রাজপালের জামিন মঞ্জুর করা হয়।
ঋণের জালে জর্জরিত কেরিয়ার: নেপথ্যে কোন ঘটনা? রাজপাল যাদবের এই আইনি সংকটের সূত্রপাত ঘটেছিল ২০১০ সালে। নিজের পরিচালিত সিনেমা ‘আতা পাতা লাপাতা’ নির্মাণের জন্য একটি বেসরকারি সংস্থা থেকে ৫ কোটি রুপি লোন (Loan) নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সিনেমাটি বক্স অফিসে ব্যর্থ হওয়ার পর ঋণের জালে জড়িয়ে পড়েন অভিনেতা। সুদে-আসলে সেই ঋণের পরিমাণ বর্তমানে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯ কোটি রুপিতে। পাওনাদারদের দেওয়া চেক বাউন্স (Check Bounce) হওয়ায় আইনি জটিলতা চরম আকার ধারণ করে। ইতিপূর্বে আদালতে বারবার সময় চেয়েও ব্যর্থ হন তিনি। শেষ পর্যন্ত যথাযথ আইনি যুক্তির অভাবে তাঁকে দিল্লির তিহার জেলে বন্দি হতে হয়।
বলিউডের সংহতি: সলমন ও সোনুর বড় ভূমিকা ব্যক্তিগত ও পেশাদার জীবনের এই চরম দুর্দিনে রাজপাল যাদব একা ছিলেন না। বলিউডের একঝাঁক তারকা তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন। বিশেষ করে অভিনেতা সোনু সুড এবং মেগাস্টার সলমন খানের নাম উঠে এসেছে বারবার। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও অত্যন্ত ‘ভাইরাল’ (Viral Video) হয়েছে, যেখানে জামিন পাওয়ার পর সলমন খানকে ‘বড় ভাই’ সম্বোধন করে আবেগঘন কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে দেখা গেছে রাজপালকে। ইন্ডাস্ট্রির গুঞ্জন, রাজপালের এই কঠিন সময়ে আর্থিক ও মানসিক— উভয়ভাবেই বড় ধরণের সমর্থন জুগিয়েছেন সলমন।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও বিনোদন জগতে ফেরা দীর্ঘদিন জেলবন্দি থাকায় রাজপালের বেশ কিছু সিনেমার কাজ থমকে ছিল। ‘ভুল ভুলাইয়া ৩’-সহ একাধিক বড় বাজেটের প্রজেক্টে তাঁর অভিনয়ের কথা রয়েছে। ভক্তদের আশা, কারাগারের সেই অন্ধকার দিনগুলো পেছনে ফেলে রাজপাল যাদব আবারও তাঁর সহজাত কৌতুক অভিনয়ের মাধ্যমে রূপালি পর্দায় দর্শকদের হাসাতে ফিরবেন। তবে এই জামিন তাঁর জন্য সাময়িক স্বস্তি হলেও, বকেয়া ঋণের বিশাল বোঝা তিনি কীভাবে মেটাবেন, তা নিয়ে এখনও জল্পনা রয়ে গেছে।