ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই পরাজিত প্রার্থীদের পক্ষ থেকে ভোট পুনঃগণনার দাবি উঠেছে। এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে নির্বাচন কমিশন (EC)। নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানিয়েছেন, কমিশন নিজ থেকে কোনো ভোট পুনঃগণনার সিদ্ধান্ত নেবে না; তবে উচ্চ আদালত বা সংশ্লিষ্ট আদালতের নির্দেশনা পেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
আদালতের নির্দেশনার ওপর নির্ভরতা
ভোটের ফলাফল নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ইতিমধ্যে কেউ কেউ ‘রি-কাউন্টিং’ (Re-counting) বা ভোট পুনঃগণনার আবেদন জানিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে ইসি আনোয়ারুল বলেন, "আদালতের নির্দেশ পেলে তবেই ভোট পুনঃগণনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আইনি প্রক্রিয়ার বাইরে কমিশনের এই মুহূর্তে কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ নেই।" তিনি আরও যোগ করেন যে, কোনো অভিযোগকারী যদি ফলাফলে সংক্ষুব্ধ হন, তবে তাঁর জন্য আইনের দ্বারস্থ হওয়ার পথ সবসময় খোলা রয়েছে।
গেজেট প্রকাশ ও ১১-দলীয় জোটের অভিযোগ
নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পরপরই গেজেট প্রকাশ নিয়ে কিছু মহলে ‘তড়িঘড়ি’র অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, "গেজেট প্রকাশে কমিশন কোনো তাড়াহুড়ো করেনি। আইনের নির্ধারিত গণ্ডির মধ্যে থেকেই যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে এবং সঠিক সময়েই গেজেট (Gazette Notification) প্রকাশ হয়েছে।"
১১-দলীয় জোটের পক্ষ থেকে ফলাফল পুনবিবেচনার দাবি জানানো হয়েছিল। এ প্রসঙ্গে আনোয়ারুল ইসলাম সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দেন, "ফলাফল ঘোষণার পর তা পুনবিবেচনার বিষয়টি এখন অপ্রাসঙ্গিক। তবে কেউ চাইলে যথাযথ আইনি পন্থায় চ্যালেঞ্জ করতে পারেন।"
নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা ও সফলতার দাবি
সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনকে ‘সুষ্ঠু, সুন্দর ও নিরপেক্ষ’ হিসেবে অভিহিত করে কমিশন নিজেদের সফল দাবি করেছে। ইসি আনোয়ারুল বলেন, "একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে কমিশন সফল হয়েছে। আমাদের প্রত্যাশার চেয়েও বেশি সফলতা অর্জিত হয়েছে এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে।" আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও ‘নিউট্রালিটি’ (Neutrality) বজায় রেখে কাজ করার ফলেই জনগণের রায়ের প্রতিফলন ঘটেছে বলে তিনি মনে করেন।
শেরপুর-৩ ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর আবেদন
ভোট পুনঃগণনার জন্য নির্বাচন কমিশনে আবেদন করেছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। একই সঙ্গে তিনি নবনির্বাচিতদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান স্থগিত রাখারও অনুরোধ জানিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে ইসি কোনো তাৎক্ষণিক স্থগিতাদেশ দেয়নি। অন্যদিকে, শেরপুর-৩ আসনের ভোট নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা বা আপিল প্রসঙ্গে আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানান, এই আসনের বিষয়ে কমিশন এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি। বিষয়টি বর্তমানে পর্যালোচনার অধীনে রয়েছে।
নির্বাচন-পরবর্তী এমন আইনি চ্যালেঞ্জ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ারই অংশ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এখন দেখার বিষয়, আদালতের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে কমিশন ভবিষ্যতে কোনো আসনের ভোট পুনঃগণনার পথে হাঁটে কি না।