ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে প্রাণের স্পন্দন দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ দেড় দশক পর রাজনীতির মূল স্রোতে ফিরে আসা বিএনপি এখন রাষ্ট্র পরিচালনার চূড়ান্ত প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। এরই অংশ হিসেবে জোটের শরিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে ‘পলিটিক্যাল এনগেজমেন্ট’ (Political Engagement) বাড়িয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর বেইলি রোডে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বাসভবনে গিয়ে তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন তিনি।
বসুন্ধরা থেকে বেইলি রোড: এক কর্মব্যস্ত সন্ধ্যা
নির্বাচনী ফলাফলের পর তারেক রহমানের ব্যস্ততা এখন তুঙ্গে। রোববার দিনটি ছিল তাঁর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সন্ধ্যায় প্রথমে তিনি বসুন্ধরায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে তাঁর বাসভবনে সাক্ষাৎ করেন। সেখান থেকে রাত ৮টার দিকে তিনি রওয়ানা হন বেইলি রোডের উদ্দেশ্যে। নাহিদ ইসলামের বাসভবনে পৌঁছালে এনসিপি আহ্বায়ক তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান এবং ফুলের তোড়া দিয়ে বরণ করে নেন।
এই সৌজন্য সাক্ষাতের সময় তারেক রহমানের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সফরগুলো কেবল শিষ্টাচার নয়, বরং নির্বাচন-পরবর্তী ‘স্ট্র্যাটেজিক অ্যালায়েন্স’ (Strategic Alliance) এবং ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রকাঠামো নিয়ে আলোচনার একটি অংশ।
নির্বাচনী সাফল্যের প্রেক্ষাপট: এক অনন্য মাইলফলক
গত বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি এক অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। ২৯৭টি আসনের ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায়, বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসনে জয়লাভ করে ‘অ্যাবসোলুট মেজরিটি’ (Absolute Majority) বা একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করেছে। জোটের শরিকদের আরও ৩টি আসন মিলিয়ে বর্তমানে বিএনপি জোটের আসনসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১২-তে। দীর্ঘ ১৫ বছর পর এই ‘ল্যান্ডস্লাইড ভিক্টরি’ (Landslide Victory) দলটির তৃণমূল থেকে শীর্ষ পর্যায়ে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে।
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অভিনন্দনের জোয়ার
তারেক রহমানের এই ঐতিহাসিক বিজয়ে তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এক বিশেষ বার্তায় তিনি বলেন, “আপনার নেতৃত্বে বিএনপি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করায় আপনাকে আন্তরিক মোবারকবাদ। গণতান্ত্রিক উত্তরণের এই ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ায় জনগণের এই স্পষ্ট রায় দেশের সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্থিতিশীলতার (Institutional Stability) ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।”
নির্বাচনী ডামাডোল কাটিয়ে এখন শপথ গ্রহণ ও সরকার গঠনের মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে দেশবাসী। তারেক রহমানের এই ঝটিকা সফরগুলো দেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতির এক ইতিবাচক ও ভারসাম্যপূর্ণ ‘পলিটিক্যাল অ্যালাইনমেন্ট’ (Political Alignment)-এর ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।