বাংলাদেশের উত্তর প্রান্তের জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া থেকে শুরু হয়েছিল সেলিম হোসেইনের যাত্রা। পরিবারের ইচ্ছা ছিল তিনি সেনাবাহিনীতে যোগ দেবেন, কিন্তু সেলিমের স্বপ্ন ছিল সৃজনশীল কিছু করার। সেই টানেই ঢাকায় আসা এবং প্রতিকূলতা জয় করে আজ তিনি একজন সফল ইউটিউবার ও আইটি বিশেষজ্ঞ।
সংগ্রাম থেকে সাফল্যের শুরু ২০০৯ সালে ঢাকায় এসে তিতুমীর কলেজে ভর্তি হওয়ার পর টিউশনি করে জীবন চলত সেলিমের। তবে গতানুগতিক ক্যারিয়ারে তাঁর মন ছিল না। ভিডিও এডিটিংয়ের প্রতি আগ্রহ থেকে তিনি ক্রিয়েটিভ আইটি ইনস্টিটিউটে ভর্তি হন। সেখানে কঠোর পরিশ্রম আর মেধার জোরে দ্রুতই নিজেকে দক্ষ করে তোলেন। এরপর আরটিভি সহ বিভিন্ন প্রোডাকশন হাউসে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁর ঝুলিতে জমা হয়।
দেশের 'কোকোমেলন' মুভ কিডজ কোভিড-পরবর্তী সময়ে মেন্টর মনির হোসেনের পরামর্শে শিশুদের জন্য মানসম্মত কনটেন্ট তৈরির উদ্যোগ নেন সেলিম। প্রতিষ্ঠা করেন 'মুভ কিডজ' চ্যানেলটি। বর্তমানে এই চ্যানেলের গ্রাহকসংখ্যা প্রায় ১৯ লাখ ৪০ হাজার। ৮০টিরও বেশি ভিডিও ১ মিলিয়নের বেশি মানুষ দেখেছেন। আন্তর্জাতিক মানের অ্যানিমেশন ও সহজবোধ্য উপস্থাপনার কারণে শিশুদের কাছে এটি অত্যন্ত জনপ্রিয়, যার স্বীকৃতিস্বরূপ ইউটিউব থেকে তিনি পেয়েছেন 'গোল্ডেন প্লে বাটন'।
একাধিক ভূমিকা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সেলিম হোসেইন কেবল একজন ইউটিউবারই নন, তিনি বর্তমানে ক্রিয়েটিভ আইটি ইনস্টিটিউটের ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর অধীনে চার হাজারের বেশি শিক্ষার্থী এই খাতে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি 'মুভ রিলস স্টুডিও' পরিচালনা করছেন।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে সেলিম জানান, তিনি তাঁর স্টুডিওকে একটি আন্তর্জাতিক মানের এআইভিত্তিক কমার্শিয়াল স্টুডিও হিসেবে গড়ে তুলতে চান। একইসঙ্গে বাংলা ভাষাভাষী শিশুদের জন্য বিশ্বমানের সুস্থ বিনোদন নিশ্চিত করাই তাঁর মূল লক্ষ্য।