• দেশজুড়ে
  • ভোররাতে হাহাকার: উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভয়াবহ আগুনে পুড়ল ৩৫ বসতি

ভোররাতে হাহাকার: উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভয়াবহ আগুনে পুড়ল ৩৫ বসতি

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
ভোররাতে হাহাকার: উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভয়াবহ আগুনে পুড়ল ৩৫ বসতি

কক্সবাজারের উখিয়ায় ৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দেড় ঘণ্টার তাণ্ডবে ভস্মীভূত কয়েক ডজন ঘর; ১৫ লাখ টাকার সম্পদ রক্ষা করল ফায়ার সার্ভিস।

কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আবারও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) ভোররাতে যখন ক্যাম্পের বাসিন্দারা গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, ঠিক তখনই ৫ নম্বর ক্যাম্পের একটি ব্লকে আগুনের সূত্রপাত হয়। দীর্ঘ দেড় ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস প্রচেষ্টায় ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হলেও ততক্ষণে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে অন্তত ৩৫টি বসতি।

ভোররাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে আগুনের লেলিহান শিখা ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার ভোররাত ৩টা ১৫ মিনিটের দিকে উখিয়ার ৫ নম্বর ক্যাম্পের ব্লক-ই-৫ এলাকায় হঠাৎ আগুনের শিখা দেখা দেয়। মুহূর্তের মধ্যেই দাহ্য পদার্থের সংস্পর্শে এসে আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের ভয়াবহতা দেখে আতঙ্কিত বাসিন্দারা ঘর ছেড়ে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নেন। কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন জানান, খবর পাওয়ার মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যেই ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ‘Fire-fighting’ কার্যক্রম শুরু করেন।

ফায়ার সার্ভিসের তড়িৎ পদক্ষেপ ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে উখিয়া ফায়ার স্টেশনের ৩টি ইউনিট এবং একটি বিশেষায়িত ‘Satellite Fire Station’ ইউনিট দ্রুত অগ্নিনির্বাপণে অংশ নেয়। চার ইউনিটের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ভোররাত পৌনে ৫টার দিকে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে। প্রাথমিক ‘Damage Assessment’ বা ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ অনুযায়ী, আগুনে ৩৫টি ঘর সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ৫ লাখ টাকা। তবে ফায়ার সার্ভিসের তড়িৎ পদক্ষেপে প্রায় ১৫ লাখ টাকার মালামাল নিশ্চিত ধ্বংসের হাত থেকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। স্বস্তির বিষয় হলো, এই দুর্ঘটনায় কোনো প্রাণহানি বা ‘Casualty’ ঘটেনি।

আগুনের উৎস নিয়ে ধোঁয়াশা ও তদন্ত ঘনবসতিপূর্ণ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হলো, তা নিয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শর্ট সার্কিট না কি অন্য কোনো কারণে এই অগ্নিকাণ্ড, তা খতিয়ে দেখছে ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত দল। মোরশেদ হোসেন জানান, আগুনের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং খুব শীঘ্রই বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।

বারবার অগ্নিকাণ্ড: উদ্বেগের মুখে ক্যাম্পের নিরাপত্তা উল্লেখ্য যে, চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে অন্তত চারবার বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটল। এসব অগ্নিকাণ্ডে এ পর্যন্ত পাঁচ শতাধিক বসতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘনবসতি এবং দাহ্য সামগ্রীর ব্যবহার ক্যাম্পগুলোকে অগ্নিকাণ্ডের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। বারবার এ ধরনের ঘটনায় ক্যাম্পের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ‘Fire Safety’ প্রোটোকল নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলে।