নামটা শুনলে অবলীলায় চোখে ভেসে ওঠে ভারতের বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি যুবরাজ সিংয়ের সেই বিধ্বংসী ব্যাটিং। তবে মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) চেন্নাইয়ের এমএ চিদম্বরম স্টেডিয়াম দেখল আরেক ‘যুবরাজ’ ম্যাজিক। ১৯ বছর বয়সী কানাডিয়ান ওপেনার যুবরাজ শর্মার রেকর্ডগড়া সেঞ্চুরিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নতুন ইতিহাস রচিত হলো। তবে ব্যক্তিগত এই মহাকাব্যিক ইনিংসটিও যথেষ্ট ছিল না শক্তিশালী নিউজিল্যান্ডকে থামানোর জন্য। গ্লেন ফিলিপস ও রাচীন রবীন্দ্রের ব্যাটে চড়ে সহজ জয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ‘সুপার এইট’ (Super Eight) নিশ্চিত করেছে কিউইরা।
নামে যুবরাজ, কাজেও বিশ্বরেকর্ড টসে জিতে আগে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয় কানাডা। ইনিংসের শুরু থেকেই নিউজিল্যান্ডের বোলারদের ওপর চড়াও হন যুবরাজ শর্মা। মাত্র ৬৫ বলে ১১০ রানের এক টর্নেডো ইনিংস খেলেন এই বাঁহাতি ওপেনার, যেখানে ছিল ১১টি চার ও ৬টি বিশাল ছক্কার প্রদর্শনী। এই ইনিংসের পথেই তিনি গড়েছেন অভাবনীয় এক বিশ্বরেকর্ড। মাত্র ১৯ বছর ১৪১ দিন বয়সে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে তিনি এখন আসরের ইতিহাসের কনিষ্ঠতম সেঞ্চুরিয়ন (Youngest Centurion)। তিনি ভেঙে দিয়েছেন পাকিস্তানের আহমেদ শেহজাদের ১০ বছরের পুরনো রেকর্ড। ২০১৪ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে ২২ বছর বয়সে সেঞ্চুরি করেছিলেন শেহজাদ।
কানাডার লড়াকু পুঁজি ও কিউইদের শুরু যুবরাজ ও অধিনায়ক দিলপ্রিত বাজওয়ার ব্যাটে ভর করে উদ্বোধনী জুটিতেই ১১৬ রান তুলে ফেলে কানাডা। বাজওয়া ৩৯ বলে ৩৬ রান করে আউট হলে এই জুটির সমাপ্তি ঘটে। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৭৩ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর দাঁড় করায় কানাডা। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে জ্যাকব ডাফি, ম্যাট হেনরি ও কাইল জেমিসন একটি করে উইকেট শিকার করেন।
১৭৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই কিছুটা চাপে পড়েছিল ব্ল্যাক ক্যাপসরা। দলীয় মাত্র ৩০ রানে টিম সেইফার্ট ও ফিন অ্যালেন সাজঘরে ফিরলে ম্যাচে ফেরার আভাস দিয়েছিল কানাডীয় বোলাররা। তবে সেই প্রতিরোধ বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দেননি দুই তারকা ব্যাটার গ্লেন ফিলিপস ও রাচীন রবীন্দ্র।
ফিলিপস-রবীন্দ্র জুটিতে বিধ্বস্ত কানাডা তৃতীয় উইকেটে ফিলিপস ও রবীন্দ্র যেন ব্যাটিং তাণ্ডব শুরু করেন। কানাডার বোলারদের লাইন-লেংথ এলোমেলো করে দিয়ে মাত্র ১২ ওভারেই ১৪৬ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েন তারা। ফিলিপস ছিলেন রীতিমতো বিধ্বংসী; মাত্র ৩৬ বলে ৪টি চার ও ৬টি ছক্কায় খেলেন ৭৬* রানের হার না মানা ইনিংস। অন্যদিকে, তাঁকে যোগ্য সঙ্গ দেওয়া রাচীন রবীন্দ্র ৩৯ বলে ৫৯* রান করে মাঠ ছাড়েন। নিউজিল্যান্ড ২৯ বল হাতে রেখেই ৮ উইকেটের দাপুটে জয় তুলে নেয় এবং বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ ‘সুপার এইট’ পর্বে নিজেদের স্থান নিশ্চিত করে।
রেকর্ড ছাপিয়ে আক্ষেপ ম্যাচ শেষে হারলেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন যুবরাজ শর্মা। সহযোগী দেশ হিসেবে কানাডার কোনো ক্রিকেটারের এমন রাজকীয় অভিষেক বিশ্বকাপ রাঙিয়ে দিল। তবে দলীয় ব্যর্থতায় তাঁর রেকর্ডগড়া সেঞ্চুরিটি কিছুটা ম্লান হয়ে রইল। অন্যদিকে, অভিজ্ঞ নিউজিল্যান্ড প্রমাণ করল কেন তারা আইসিসি ইভেন্টের অন্যতম ফেভারিট (Tournament Favorites)। তাদের ধারাবাহিক পারফরম্যান্স সুপার এইটের লড়াইকে আরও জমজমাট করে তুলল।