বলিউডে নতুন করে আলোচনায় এলেন ‘গাদার ২’ খ্যাত অভিনেত্রী আমিশা প্যাটেল। তবে এবার কোনো সিনেমার জন্য নয়, বরং আর্থিক জালিয়াতির মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে জারি হয়েছে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা। মোরাদাবাদের একটি আদালত এই নির্দেশ দিয়েছে।
মামলার প্রেক্ষাপট ও অভিযোগ ঘটনাটির সূত্রপাত প্রায় ১০ বছর আগে। ২০১৭ সালে মোরাদাবাদের একজন ইভেন্ট ম্যানেজার পবন ভার্মা আমিশার বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। অভিযোগ অনুসারে, একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে পারফর্ম করার জন্য আমিশা প্যাটেলকে ১৪ লাখ ৫০ হাজার রুপি অগ্রিম দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগকারী পবন ভার্মার দাবি, অর্থ গ্রহণ করা সত্ত্বেও আমিশা সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হননি। উপরন্তু, তিনি অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছানোর পর আরও অতিরিক্ত অর্থ দাবি করে সেখান থেকে চলে যান বলে অভিযোগ ওঠে।
চেক বাউন্স ও আদালতের নির্দেশ পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে জানাজানি হলে আমিশা ১০ লাখ রুপি ফেরত দেন। তবে বাকি ৪ লাখ ৫০ হাজার রুপির জন্য তিনি যে চেকটি দিয়েছিলেন, সেটি ব্যাংকে জমা দেওয়ার পর বাউন্স করে। পবন ভার্মা অভিযোগ করেন যে, বকেয়া অর্থ পরিশোধের একাধিক আশ্বাস দিলেও অভিনেত্রী তা রক্ষা করেননি। আদালত এই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আমিশাকে বেশ কয়েকবার সমন জারি করলেও তিনি শুনানিতে উপস্থিত হননি। অবশেষে নির্ধারিত সময়ে হাজিরা না দেওয়ায় আদালত তাঁর বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন এবং আগামী ২৭ মার্চ তাঁকে সশরীরে আদালতে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ অস্বীকার আমিশার তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আমিশা প্যাটেল। তাঁর দাবি, ঘটনাটি অনেক পুরনো এবং তিনি প্রয়োজনীয় নথিপত্রের মাধ্যমে সমস্ত আর্থিক লেনদেন মিটিয়ে দিয়েছেন। পবন ভার্মা ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির জন্য বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই মিথ্যা মামলা করেছেন বলে পাল্টা দাবি অভিনেত্রীর। বর্তমানে আমিশার আইনজীবীরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন এবং অভিযোগকারীর বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।