বর্তমানে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভারতের অন্যতম প্রতিনিধি প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। কিন্তু ২০০৩ সালে যখন ‘আন্দাজ’ সিনেমার মাধ্যমে তাঁর ক্যারিয়ার শুরু হয়, তখন লবিং আর স্বজনপ্রীতির ভিড়ে নিজেকে টিকিয়ে রাখা ছিল এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। সম্প্রতি এক আলোচনায় প্রিয়াঙ্কা জানান, ২০০৭ সালে ‘সালাম-ই-ইশক’ সিনেমার শুটিং চলাকালীন একটি অপ্রীতিকর ঘটনার মুখোমুখি হন তিনি।
সহ-অভিনেতার আপত্তিতে বাদ প্রিয়াঙ্কা জানান, সেই সময় তিনি একটি নতুন সিনেমায় অভিনয়ের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন এবং শুটিং শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করেই তাঁর সহ-অভিনেতা সেটে এসে জানান, পরিচালক নাকি ‘ভুল করে’ তাঁকে কাস্টিং করেছেন। সেই অভিনেতা সরাসরি বলেন, ছবিটি আসলে অন্য এক অভিনেত্রীর জন্য পরিকল্পিত ছিল। বিষয়টি এতই আকস্মিক ছিল যে, মাত্র ২২ বছর বয়সী প্রিয়াঙ্কা তখন পুরোপুরি ভেঙে পড়েছিলেন। হাতে বৈধ চুক্তিপত্র থাকা সত্ত্বেও ক্ষমতার দাপটে তাঁকে সরে যেতে হয়েছিল।
ইন্ডাস্ট্রির অঘোষিত রাজনীতি প্রিয়াঙ্কার মতে, সেই সিনেমাটি তাঁর ক্যারিয়ারের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তিনি বলেন, “আমি ভাবছিলাম চুক্তি তো সই করা, তাহলে কীভাবে বাদ দেওয়া সম্ভব?” কিন্তু পরে বুঝতে পারেন, সিনেমার পর্দার পেছনে এমন অনেক রাজনীতি চলে যা কেবল প্রতিভার ওপর নির্ভর করে না। এমনকি একাধিকবার প্রধান চরিত্র থেকে তাঁকে দ্বিতীয় সারির চরিত্রে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে কিংবা অন্য কাউকে জায়গা করে দিতে তাঁকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
হতাশা থেকে ঘুরে দাঁড়ানো বারবার এমন বাধার মুখে পড়ে এক সময় নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে সন্দিহান হয়ে পড়েছিলেন প্রিয়াঙ্কা। এমনকি অভিনয় ছেড়ে কলেজে ফিরে যাওয়ার কথাও ভেবেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি কাজের ওপর মনোযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর কথায়, “আমি ঠিক করি, কাজের ওপরই ফোকাস করব। সেটাই আমাকে ধরে রেখেছিল এবং আরও কাজ এনে দিয়েছিল।”
সাফল্যের দীর্ঘ পথ বহিরাগত হিসেবে বলিউডে জায়গা করে নেওয়া যে কতটা কঠিন, তা স্মরণ করে প্রিয়াঙ্কা বলেন, “কেউ আমার জন্য সিনেমা বানাচ্ছিল না। কারও বাড়ির মানুষও ছিলাম না আমি।” তবে এই লড়াইই তাঁকে বিশ্বমঞ্চে নিজের অবস্থান তৈরিতে সাহায্য করেছে। ২০১৯ সালে ‘দ্য স্কাই ইজ পিংক’ ছবিতে শেষবার বলিউড পর্দায় দেখা গেছে তাঁকে। আগামীতে এস এস রাজামৌলির ‘বারানসি’ সিনেমায় দেখা যাবে এই গ্লোবাল আইকনকে।