বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়ক মান্নার ১৮তম মৃত্যুবার্ষিকীতে বিনোদন অঙ্গনসহ সারা দেশের ভক্তরা তাকে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করছেন। ২০০৮ সালের এই দিনে মাত্র ৪৪ বছর বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বরণ করেন তিনি।
নতুন মুখের সন্ধানে থেকে ঢালিউড সম্রাট ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন সংস্থা (বিএফডিসি) আয়োজিত ‘নতুন মুখের সন্ধানে’ কার্যক্রমের মাধ্যমে মান্না চলচ্চিত্রে আসেন। তার অভিনীত প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ‘পাগলি’ হলেও ১৯৯১ সালে মোস্তফা আনোয়ার পরিচালিত ‘কাসেম মালার প্রেম’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান। এরপর আর তাকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।
প্রতিবাদী কণ্ঠ ও সোনালী অধ্যায় নব্বইয়ের দশকে অশ্লীলতা যখন বাংলা চলচ্চিত্রকে গ্রাস করছিল, তখন মান্না একাই লড়াই করে রুচিশীল চলচ্চিত্র উপহার দিয়েছিলেন। ‘দাঙ্গা’, ‘ত্রাস’, ‘তেজী’, ‘আম্মাজান’, ‘শান্ত কেন অশান্ত’ এবং ‘লাল বাদশা’র মতো তিন শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করে তিনি নিজেকে ঢালিউডের নির্ভরযোগ্য ও অপ্রতিদ্বন্দ্বী নায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। বিশেষ করে সামাজিক ও পারিবারিক গল্পের পাশাপাশি গণমানুষের অধিকার আদায়ের প্রতিবাদী চরিত্রে তার অভিনয় আজও অতুলনীয়।
সাফল্য ও স্বীকৃতি অভিনয়ের পাশাপাশি মান্না ছিলেন একজন সফল প্রযোজক। তার নিজস্ব প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘কৃতাঞ্জলি চলচ্চিত্র’ থেকে ‘লুটতরাজ’, ‘স্বামী স্ত্রীর যুদ্ধ’ ও ‘আমি জেল থেকে বলছি’র মতো বহু ব্যবসাসফল ছবি নির্মিত হয়েছে। কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি একবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, তিনবার মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার এবং পাঁচবার বাচসাস পুরস্কারে ভূষিত হন।
ব্যক্তিগত জীবন ও উত্তরাধিকার মান্না ব্যক্তিগত জীবনে শেলী কাদেরের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। তাদের একমাত্র ছেলে সিয়াম ইলতিমাস মান্না বর্তমানে বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছেন। বাবার অবর্তমানে মান্নার রেখে যাওয়া প্রতিষ্ঠান ও তার স্মৃতি রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছেন পরিবার ও ভক্তরা। আজ চলচ্চিত্রের আকাশে বহু নক্ষত্র থাকলেও মান্নার সেই দাপুটে উপস্থিতি আজও দর্শক মিস করেন।