দীর্ঘদিনের যুদ্ধ নিরসনে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে নতুন করে তোড়জোড় শুরু হয়েছে। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিত এই বিশেষ বৈঠকে শুধু মূল তিন পক্ষই নয়, বরং ইউরোপের প্রভাবশালী দেশগুলোর প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনার মূল বিষয়বস্তু তাসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই দফার আলোচনায় পাঁচটি প্রধান স্তম্ভের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সেগুলো হলো— ভূখণ্ডগত বিরোধ মেটানো, সামরিক নিয়ন্ত্রণ, রাজনৈতিক সমাধান, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, এবারের আলোচনায় আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত পূর্ববর্তী বৈঠকগুলোর চেয়ে অনেক বেশি বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিশেষ করে ভূখণ্ড রক্ষার মতো স্পর্শকাতর ইস্যুগুলো এবার সরাসরি এজেন্ডায় ছিল।
ইউরোপীয় দেশগুলোর অংশগ্রহণ জেনেভার এই বৈঠকে শুধু রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র বা ইউক্রেন নয়, বরং ইতালি, জার্মানি, ফ্রান্স এবং যুক্তরাজ্যের প্রতিনিধিরাও অংশ নিয়েছেন। এসব দেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টারা ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলাদাভাবে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকেও মিলিত হবেন বলে জানা গেছে। এটি ইঙ্গিত দেয় যে, ইউক্রেন সংকটের সমাধানে পশ্চিমা শক্তিগুলো একটি সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে চাইছে।
উত্তেজনাপূর্ণ ও আপসনির্ভর আলোচনা বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, রুশ প্রতিনিধিদলের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র এই বৈঠককে অত্যন্ত 'উত্তেজনাপূর্ণ' বলে অভিহিত করেছে। পেসকভের মতে, আলোচনার টেবিলে এমন অনেক জটিল বিষয় ছিল যা সমাধানের জন্য সব পক্ষকেই অনেকটা আপস করতে হতে পারে। তবে বুধবার আবারও নতুন করে আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে, যা থেকে আরও ইতিবাচক কোনো অগ্রগতির আশা করা হচ্ছে।
শান্তি প্রক্রিয়ার গুরুত্ব এর আগে আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনাগুলো মূলত যুদ্ধবিরতি এবং সামরিক সমন্বয় নিয়ে সীমাবদ্ধ ছিল, যার ফলে তেমন কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। তবে জেনেভার এই গোপন বৈঠককে যুদ্ধের চূড়ান্ত অবসানের লক্ষ্যে এক বৃহত্তর কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাজনৈতিক ও ভূখণ্ডগত দাবিগুলো টেবিলে আসায় বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এবার হয়তো স্থায়ী কোনো সমাধানের দিকে এগোচ্ছে বিবদমান পক্ষগুলো।