• রাজনীতি
  • ওবায়দুল কাদেরের মামলায় হাদির জবানবন্দি সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণের আবেদন: ট্রাইব্যুনালে শুরু হলো আনুষ্ঠানিক বিচার প্রক্রিয়া

ওবায়দুল কাদেরের মামলায় হাদির জবানবন্দি সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণের আবেদন: ট্রাইব্যুনালে শুরু হলো আনুষ্ঠানিক বিচার প্রক্রিয়া

রাজনীতি ১ মিনিট পড়া
ওবায়দুল কাদেরের মামলায় হাদির জবানবন্দি সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণের আবেদন: ট্রাইব্যুনালে শুরু হলো আনুষ্ঠানিক বিচার প্রক্রিয়া

জুলাই-আগস্টের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে নয়া মাত্রা; ওবায়দুল কাদেরসহ সাত পলাতক নেতার বিরুদ্ধে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়কের সাক্ষ্য ব্যবহারের আর্জি প্রসিকিউশনের।

জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান দমনে সংঘটিত নজিরবিহীন ‘Crimes against Humanity’ বা মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে নতুন মোড় নিয়েছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজন শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে চলমান মামলায় ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির জবানবন্দিকে আনুষ্ঠানিক সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করার আবেদন জানিয়েছে প্রসিকিউশন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ (ICT-2) এ এই আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে, যা বিচারিক প্রক্রিয়ায় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রসিকিউশনের বিশেষ আবেদন ও আইনি যুক্তি বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম সংবাদমাধ্যমকে জানান, ওবায়দুল কাদেরের মামলার তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে শরিফ ওসমান হাদি ইতোমধ্যেই সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি প্রদান করেছেন। প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আজ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করা হয়েছে যেন হাদির সেই জবানবন্দিকে এই মামলার সাক্ষ্য হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়। এই আবেদনের ওপর ট্রাইব্যুনাল-২ এ বিস্তারিত শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আইনি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সাক্ষ্য গ্রহণ করা হলে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণে ‘Prosecution’-এর অবস্থান আরও সুসংহত হবে।

পলাতক সাত হেভিওয়েট আসামি ও বর্তমান পরিস্থিতি এই মামলায় ওবায়দুল কাদের ছাড়াও আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সাতজন শীর্ষস্থানীয় নেতাকে আসামি করা হয়েছে। চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, অভিযুক্তদের প্রত্যেকেই বর্তমানে পলাতক। ওবায়দুল কাদেরের পাশাপাশি অন্য আসামিরা হলেন:

আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম

সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত

যুবলীগ সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ

যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল

ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন

ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান

আসামিরা পলাতক থাকায় গত ৮ জানুয়ারি আদালতের পক্ষ থেকে তাদের আইনি সহায়তা নিশ্চিত করতে দুজন ‘State Defense’ আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

বিচারের গতিপ্রকৃতি ও সাক্ষ্যগ্রহণের ধারাবাহিকতা গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রসিকিউশনের ‘Opening Statement’ বা সূচনা বক্তব্যের মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক মামলার আনুষ্ঠানিক বিচারকাজ শুরু হয়। মামলার প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন শহীদ আসিফ ইকবালের বাবা এমএ রাজ্জাক। তবে তার জবানবন্দি দীর্ঘ হওয়ায় গতকাল তা শেষ হয়নি; আজ পুনরায় তার অবশিষ্ট জবানবন্দি গ্রহণের দিন ধার্য রয়েছে। এর আগে গত ২২ জানুয়ারি আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে ‘Formal Charge’ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন।

যে অভিযোগে কাঠগড়ায় সাবেক মন্ত্রী ও শীর্ষ নেতারা প্রসিকিউশনের দায়ের করা অভিযোগে বলা হয়েছে, জুলাই-আগস্টের উত্তাল দিনগুলোতে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে এই সাতজন আসামি সমন্বিতভাবে নির্দেশ প্রদান করেছেন। অভিযোগের প্রধান দিকগুলো হলো: ১. উসকানিমূলক বক্তব্য: জনসমক্ষে প্ররোচনামূলক ও উসকানিমূলক বক্তৃতা দিয়ে সহিংসতা উসকে দেওয়া। ২. সশস্ত্র হামলা: দলীয় নেতাকর্মীদের রাজপথে নামিয়ে সাধারণ মানুষের ওপর সশস্ত্র হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন। ৩. Media Control: রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারি গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করে সত্য ধামাচাপা দেওয়া এবং দমন-পীড়নের প্রেক্ষাপট তৈরি করা। ৪. মানবতাবিরোধী অপরাধ: আসামিদের এসব কর্মকাণ্ডের সরাসরি প্রভাবে দেশজুড়ে ব্যাপক হত্যাকাণ্ড, হত্যাচেষ্টা এবং অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনা ঘটেছে, যা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের অধীনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এই বিচার প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল কাজ করছে। প্রসিকিউশন আশা করছে, নিরপেক্ষ তদন্ত ও অকাট্য সাক্ষ্যের ভিত্তিতে জুলাই-আগস্টের নির্মমতার শিকার পরিবারগুলো ন্যায়বিচার পাবে।

Tags: awami league july uprising obaidul quader sharif osman hadi tribunal update humanity crimes ict case prosecution appeal fugitives list formal charge