• রাজনীতি
  • গুলশানে ফ্ল্যাট জালিয়াতি: শেখ হাসিনার ভাগনি টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি

গুলশানে ফ্ল্যাট জালিয়াতি: শেখ হাসিনার ভাগনি টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি

রাজনীতি ১ মিনিট পড়া
গুলশানে ফ্ল্যাট জালিয়াতি: শেখ হাসিনার ভাগনি টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি

রাজউকের সাবেক কর্মকর্তাসহ দুইজনের বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট গ্রহণ আদালতের; ক্ষমতার অপব্যবহার করে অর্থ ছাড়াই ফ্ল্যাট দখলের অভিযোগ।

রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশানে অবৈধভাবে ফ্ল্যাট গ্রহণের অভিযোগে করা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় বড় ধরনের আইনি বিপাকে পড়েছেন ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগনি টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালত এই মামলায় টিউলিপ সিদ্দিকসহ দুইজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশ দিয়েছেন। ক্ষমতার পালাবদলের পর শেখ পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে চলমান আইনি প্রক্রিয়ায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আদালতের কড়া নির্দেশ: ৮ মার্চের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের আল্টিমেটাম

ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ দুদকের দেওয়া ‘Charge Sheet’ (অভিযোগপত্র) পর্যালোচনা করে এই আদেশ দেন। পরোয়ানা জারি হওয়া অপর আসামি হলেন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) সাবেক সহকারী ‘Legal Advisor’ সরদার মোশাররফ হোসেন। আদালত একই সঙ্গে আগামী ৮ মার্চের মধ্যে আসামিদের গ্রেফতার সংক্রান্ত তামিল প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন। দুদকের ‘Public Prosecutor’ মীর আহম্মেদ সালাম আদালতের এই আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিনা মূল্যে ফ্ল্যাট দখলের অভিযোগ

মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে এবং পরস্পর যোগসাজশে রাজধানীর গুলশান-২ এলাকায় ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের একটি ফ্ল্যাট কোনো ধরনের অর্থ পরিশোধ না করেই দখল ও পরে রেজিস্ট্রি করার অভিযোগ রয়েছে টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে। গত বছরের ১৫ এপ্রিল দুদকের পক্ষ থেকে এই মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল। অভিযোগে বলা হয়েছে, রাজউকের তৎকালীন কর্মকর্তাদের যোগসাজশে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার চরম অপব্যবহারের মাধ্যমে এই জালিয়াতি সম্পন্ন করা হয়।

আইনি জটিলতা ও দুদকের চার্জশিট

তদন্ত শেষে গত ১১ ডিসেম্বর টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক ও সরদার মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে দুদক। তবে মামলার অপর আসামি রাজউকের সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা শাহ মো. খসরুজ্জামান হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করায় তাঁর অংশের তদন্তের ওপর তিন মাসের স্থগিতাদেশ রয়েছে। এর ফলে বর্তমানে টিউলিপ ও মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধেই আইনি প্রক্রিয়া দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, কেবল এই ফ্ল্যাট জালিয়াতিই নয়, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে প্লট বরাদ্দ ও রাজউকের বিভিন্ন প্রকল্পে অবৈধ প্রভাব বিস্তারের আরও একাধিক অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর আগে প্লট দুর্নীতি সংক্রান্ত অন্য একটি মামলায় টিউলিপ সিদ্দিকসহ পরিবারের কয়েকজনের কারাদণ্ডের খবরও বিভিন্ন গণমাধ্যমে উঠে এসেছিল।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও জনমনে প্রতিক্রিয়া

শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে আওয়ামী লীগ প্রধানের নিকটাত্মীয়দের বিরুদ্ধে দুর্নীতির একাধিক মামলা সচল হয়েছে। টিউলিপ সিদ্দিক, যিনি যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির একজন প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ হিসেবেও পরিচিত, তাঁর বিরুদ্ধে বাংলাদেশে এমন গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও আলোচনার জন্ম দিতে পারে। তবে দুদকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইনি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করেই এই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

আগামী ৮ মার্চ পুলিশের প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর এই মামলার পরবর্তী গতিপথ নির্ধারিত হবে। এখন দেখার বিষয়, পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা আইনের মুখোমুখি হন নাকি আইনি লড়াইয়ের অন্য কোনো পথ বেছে নেন।

Tags: sheikh hasina arrest warrant dhaka court corruption case legal news acc news tulip siddique gulshan flat rajuk scam flat fraud