ঢাকা, ১৮ ফেব্রুয়ারি: জুলাই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে অর্জিত নতুন বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে বিচার বিভাগকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছেন নবনিযুক্ত আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ে নিজ দপ্তরে প্রথম কার্যদিবসে দায়িত্ব গ্রহণের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, জুলাই গণহত্যার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের (Crimes Against Humanity) বিচার প্রক্রিয়া কোনো বাধা ছাড়াই অত্যন্ত স্বাভাবিক ও নিরবচ্ছিন্ন গতিতে এগিয়ে নেওয়া হবে।
বিচারের সার্থকতা ও নিরবচ্ছিন্ন গতি
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান তাঁর বক্তব্যে জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচারের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, “জুলাই গণহত্যাকে কেন্দ্র করে যে পৈশাচিক মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, তার বিচার প্রক্রিয়া ব্যাহত করার কোনো সুযোগ নেই। এই বিচার চলবে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে এবং অত্যন্ত স্বাভাবিক গতিতে। যারা এ দেশে গণতন্ত্রকামী মানুষের রক্ত ঝরিয়েছে, তাদের প্রতিটি অপরাধের বিচারিক জবাবদিহি (Accountability) নিশ্চিত করা হবে।”
তিনি আরও যোগ করেন, বিচার প্রক্রিয়াকে নিরবচ্ছিন্ন রাখতে যা যা প্রয়োজন, মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তার সবটুকু করা হবে। কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা বাহ্যিক চাপ এই বিচারিক কার্যক্রমকে প্রভাবিত করতে পারবে না।
শহীদদের আত্মত্যাগের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, “জুলাই বিপ্লবে যারা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষা করা কেবল একটি নৈতিক দায়িত্ব নয়, বরং এটি রাষ্ট্রের মৌলিক অঙ্গীকার। এই শহীদদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়েই আজকের এই নতুন পথচলা। তাঁদের এই অবদানকে রাষ্ট্র যথাযথ সম্মান ও আইনি কাঠামোর (Legal Framework) মাধ্যমে চিরস্থায়ী রূপ দেবে।”
গণতন্ত্রের শক্তিশালী ভিত্তি নির্মাণ
আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান তাঁর দীর্ঘদিনের আইনি অভিজ্ঞতার আলোকে নতুন বাংলাদেশের আইনি ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেন, “গণঅভ্যুত্থানের মূল আকাঙ্ক্ষা ছিল একটি বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। আমরা সেই আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবে রূপ দিতে কাজ করছি। দেশের গণতন্ত্রকে এমন এক শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো স্বৈরাচারী শক্তি সাধারণ মানুষের অধিকার হরণ করতে না পারে।”
আইনজীবী থেকে আইনমন্ত্রী: এক নতুন চ্যালেঞ্জ
সুপ্রিম কোর্টের প্রথিতযশা আইনজীবী থেকে আইনমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়া মো. আসাদুজ্জামান মনে করেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে বিচার বিভাগকে আরও জনবান্ধব করে তোলা জরুরি। তিনি বলেন, “মানুষ আইনের শাসন (Rule of Law) চায়। আমরা বিচারপ্রার্থী মানুষের ভোগান্তি কমাতে এবং দ্রুততম সময়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম দ্রুত শুরু করব।”
সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আইনমন্ত্রীর এই দৃঢ় অবস্থান জুলাই বিপ্লবের ভিকটিমদের পরিবারগুলোর মধ্যে আস্থার সঞ্চার করবে এবং ‘ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস ট্রাইব্যুনাল’ (ICT)-এর কার্যক্রমে নতুন গতিবেগ যোগ করবে। দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই তাঁর এই সাহসী ঘোষণা দেশের রাজনৈতিক ও আইনি অঙ্গনে ব্যাপক ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।