• খেলা
  • ভারত-বাংলাদেশ থেকে কি সরে যাচ্ছে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ও বিশ্বকাপ? বড় সংকটে উপমহাদেশের ক্রিকেট

ভারত-বাংলাদেশ থেকে কি সরে যাচ্ছে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ও বিশ্বকাপ? বড় সংকটে উপমহাদেশের ক্রিকেট

খেলা ১ মিনিট পড়া
ভারত-বাংলাদেশ থেকে কি সরে যাচ্ছে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ও বিশ্বকাপ? বড় সংকটে উপমহাদেশের ক্রিকেট

ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তা ইস্যুতে ২০২৯ ও ২০৩১ সালের মেগা ইভেন্টের আয়োজকস্বত্ব হারানোর ঝুঁকিতে বিসিসিআই ও বিসিবি; বিকল্প ভেন্যু হিসেবে শক্তিশালী দাবিদার অস্ট্রেলিয়া।

ক্রিকেট বিশ্বের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত ভারত এবার বড় ধরনের প্রশাসনিক ও কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে। চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত জটিলতায় ২০২৯ সালের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ও ২০৩১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের আয়োজকস্বত্ব হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছে দেশটি। ভারতের সাথে এই অনিশ্চয়তার কালো মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে বাংলাদেশের ওপরও, যারা ২০৩১ ওয়ানডে বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক (Co-host) হিসেবে নির্ধারিত রয়েছে।

বিতর্কের মূলে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা

ভারত ও শ্রীলঙ্কায় চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরুর আগেই বিতর্ক তুঙ্গে ওঠে। বিশেষ করে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী লড়াইকে কেন্দ্র করে কূটনৈতিক জটিলতা নতুন মাত্রা পায়। নিরাপত্তা ইস্যুতে পাকিস্তানে গিয়ে খেলতে ভারতের অস্বীকৃতি এবং পরবর্তীতে পাকিস্তানের পাল্টা অবস্থানের ফলে আইসিসি-কে একটি ‘হাইব্রিড মডেল’ (Hybrid-Model) চুক্তিতে আসতে হয়। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে আইসিসি, বিসিসিআই (BCCI) এবং পিসিবি-র (PCB) মধ্যে হওয়া এই চুক্তি অনুযায়ী, দুই দেশ একে অপরের মাটিতে কোনো বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে অংশ নেবে না। এর পরিবর্তে ম্যাচগুলো কোনো নিউট্রাল ভেন্যু (Neutral Venue) বা নিরপেক্ষ ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।

আয়োজকস্বত্ব হারানোর নেপথ্য কারণ

বিখ্যাত গণমাধ্যম ‘দ্য সিডনি মর্নিং হেরাল্ড’-এর এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইসিসি এখন ভারত ও বাংলাদেশ থেকে বড় টুর্নামেন্টগুলো সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে গুরুত্বের সাথে চিন্তা করছে। এই অস্থিরতার সূত্রপাত হয় চলতি বছরের শুরুতে, যখন আঞ্চলিক উত্তেজনার জেরে আইপিএল দল থেকে বাংলাদেশের পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (BCB) নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা তুলে ধরে আইসিসির কাছে ভারতের বাইরে ম্যাচ আয়োজনের অনুরোধ জানায়। আইসিসি সেই আবেদন প্রত্যাখ্যান করলে বাংলাদেশ টুর্নামেন্ট থেকে নিজেদের সরিয়ে নেয়। এই সিদ্ধান্তের ফলে পাকিস্তানও টুর্নামেন্ট বয়কটের হুমকি দেয়, যা ক্রিকেটের বাণিজ্যিক বাজারে এক বিশাল ধস নামানোর উপক্রম করে। প্রায় ২৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ব্রডকাস্ট রেভিনিউ (Broadcast Revenue) বা সম্প্রচার স্বত্ব এবং বাণিজ্যিক আয় হুমকির মুখে পড়লে নড়েচড়ে বসে আইসিসি প্রশাসন।

বিকল্প গন্তব্য কি অস্ট্রেলিয়া?

আইসিসির শীর্ষ প্রশাসকরা ভবিষ্যতের ইভেন্টগুলোতে এমন বিশৃঙ্খলা এড়াতে বিকল্প আয়োজক হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার কথা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছেন। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার মেগা ইভেন্ট আয়োজনের সফল ট্র্যাক রেকর্ড এবং ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের মতো হাই-ভোল্টেজ ম্যাচ সফলভাবে সামলানোর অভিজ্ঞতা আইসিসিকে প্রলুব্ধ করছে।

উল্লেখ্য, ২০১৫ ওয়ানডে বিশ্বকাপ এবং ২০২২ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়া অভাবনীয় দর্শক সমাগম নিশ্চিত করেছিল। এছাড়া অস্ট্রেলিয়ার টাইমজোন (Timezone) উপমহাদেশীয় টেলিভিশন বাজারের জন্য অত্যন্ত অনুকূল, যা প্রাইম-টাইম (Prime-time) ম্যাচ সম্প্রচারের মাধ্যমে বাণিজ্যিক মুনাফা নিশ্চিত করতে সহায়ক।

অনিশ্চয়তায় ২০৩১ বিশ্বকাপ ও বাংলাদেশ

যদি ভারত থেকে ২০২৯ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি সরিয়ে নেওয়া হয়, তবে তার সরাসরি প্রভাব পড়বে ২০৩১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের ওপর। ওই বিশ্বকাপে ভারতের সঙ্গে যৌথ আয়োজক হিসেবে বাংলাদেশের নাম চূড়ান্ত হয়ে আছে। কিন্তু বিসিসিআই ও বিসিবির মধ্যে বর্তমান কূটনৈতিক শীতলতা এবং আইসিসির সম্ভাব্য কঠোর অবস্থান বাংলাদেশের জন্য অশনিসংকেত।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সম্প্রচার স্বত্ব এবং গ্লোবাল স্পনসরশিপের (Global Sponsorship) স্বার্থে আইসিসি এমন কোনো ঝুঁকি নিতে চাইবে না যা তাদের দীর্ঘমেয়াদী বাণিজ্যিক ক্ষতি করতে পারে। ফলে উপমহাদেশের ক্রিকেট ভক্তদের জন্য ২০৩১ বিশ্বকাপের স্বপ্ন আপাতত বড়সড় প্রশ্নবোধক চিহ্নের মুখে।

এখন দেখার বিষয়, বিসিসিআই ও বিসিবি এই সংকট কাটিয়ে আইসিসি-র আস্থা পুনরায় অর্জন করতে পারে কি না, নাকি ২০৩১ সালের বিশ্বক্রিকেটের মহোৎসব পাড়ি জমাবে ক্যাঙ্গারুদের দেশে।

Tags: australia cricket world cup cricket politics icc news bcci news hybrid model bcb updates champions trophy hosting rights broadcast revenue