বিশ্ব ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ততম ফরম্যাটের মহারণ ২০২৮ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ডামাডোল ইতিমধ্যেই বাজতে শুরু করেছে। আর সেই মেগা ইভেন্টে অংশগ্রহণের প্রাথমিক বাধা অনায়াসেই টপকে গেল বাংলাদেশ। আইসিসি (ICC) নির্ধারিত র্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতে ২০২৮ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের জায়গা সুনিশ্চিত করেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। ফলে আগামী আসরে কোনো ধরনের বাছাইপর্বের ঝক্কি ছাড়াই সরাসরি মূল পর্বে লড়াই করবে চণ্ডিকা হাথুরুসিংহের শিষ্যরা।
র্যাঙ্কিংয়ের সমীকরণ ও বাংলাদেশের অবস্থান
আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, ২০২৮ বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা (Cut-off Date) পর্যন্ত র্যাঙ্কিংয়ের সেরা অবস্থানে থাকা দলগুলো সরাসরি টিকিট পায়। এক্ষেত্রে ৯ মার্চ পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। মজার ব্যাপার হলো, এই সময়সীমার আগে বাংলাদেশ বা নিকটবর্তী প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর কোনো আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ নেই। ফলে বর্তমান অবস্থান পরিবর্তনের কোনো সম্ভাবনা না থাকায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণ গাণিতিকভাবেই নিশ্চিত হয়ে গেছে।
বাংলাদেশ ছাড়াও র্যাঙ্কিংয়ের সুবিধায় সরাসরি বিশ্বকাপ খেলা নিশ্চিত করেছে আফগানিস্তান ও আয়ারল্যান্ড। এই তিন দল তাদের সাম্প্রতিক ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের সুবাদে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।
বিশ্বকাপের ১২ ভাগ্যপ্রসূত দল
২০২৮ সালের এই আসরটি যৌথভাবে আয়োজন করবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া ও ক্রিকেট বিশ্বের অন্যতম শক্তি নিউজিল্যান্ড। Host দেশ হিসেবে এই দুই পরাশক্তি সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাচ্ছে। এছাড়া চলমান ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইট (Super Eight) নিশ্চিত করা দলগুলো সরাসরি পরবর্তী আসরের টিকিট পকেটে পুরেছে।
সব মিলিয়ে মোট ১২টি দল এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত হয়েছে। এদের মধ্যে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড বাদে বাকি ১০টি দল তাদের যোগ্যতা প্রমাণ করেছে মাঠের পারফরম্যান্স এবং র্যাঙ্কিংয়ের শক্তিতে।
বাকি ৮ স্থানের জন্য আঞ্চলিক লড়াই
২০টি দলের অংশগ্রহণে আয়োজিত হতে যাওয়া এই বিশদ টুর্নামেন্টের বাকি ৮টি স্থান এখনো শূন্য। এই খালি জায়গাগুলো পূরণ করা হবে Regional Qualifiers বা আঞ্চলিক বাছাইপর্বের মাধ্যমে। এশিয়া, আফ্রিকা, আমেরিকা, ইউরোপ এবং পূর্ব এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল থেকে দলগুলো কঠিন প্রতিযোগিতার মাধ্যমে মূল আসরে আসার সুযোগ পাবে। আইসিসি জানিয়েছে, প্রতিটি অঞ্চলের ক্রিকেটের মান ও প্রতিযোগিতার গভীরতা বিবেচনা করে আসন সংখ্যা (Slots) বণ্টন করা হবে।
অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের কঠিন চ্যালেঞ্জ
অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডের বাউন্সি ও পেস-সহায়ক উইকেটে খেলা বাংলাদেশের জন্য সবসময়ই বড় চ্যালেঞ্জের। তবে লিটন কুমার দাস বা নাজমুল হোসেন শান্তদের মতো ব্যাটাররা যদি ২০২৮ সাল নাগাদ নিজেদের আরও পরিণত করে তুলতে পারেন, তবে এই আসরটি হতে পারে বাংলাদেশের জন্য ইতিহাস গড়ার মঞ্চ।
বিসিবির পরিকল্পনায় এখন থেকেই ২০২৮ বিশ্বকাপের দীর্ঘমেয়াদী রূপরেখা তৈরি করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা। সরাসরি অংশগ্রহণের সুযোগ পাওয়ায় প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সময় পাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (BCB)। এখন দেখার বিষয়, ওশেনিয়া অঞ্চলের এই মহাযজ্ঞে বাংলাদেশ তাদের ছাপ কতটা উজ্জ্বলভাবে রাখতে পারে।