২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মঞ্চে অঘটনের ঘনঘটা। এক ম্যাচ হাতে থাকতেই সুপার এইটের (Super Eight) দৌড় থেকে ছিটকে গেছে ক্রিকেটের অন্যতম পরাশক্তি অস্ট্রেলিয়া। তাদের গ্রুপ থেকে দাপটের সঙ্গে পরের রাউন্ড নিশ্চিত করেছে শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুয়ে। পাঁচ দলের লড়াইয়ে তিন ম্যাচের পর অজিদের অবস্থান এখন টেবিলের তলানির দিকে চার নম্বরে। অস্ট্রেলিয়ার এমন শোচনীয় বিদায়ে বিশ্বজুড়ে ক্রিকেট ভক্তদের মধ্যে যখন বিস্ময়, তখনই আগুন্তক হয়ে দেখা দিল এক সোশ্যাল মিডিয়া যুদ্ধ। ভারতের সাবেক তারকা ক্রিকেটার মোহাম্মদ কাইফ এবং অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি ডামিয়েন মার্টিনের মধ্যকার এই বাগযুদ্ধ এখন নেটপাড়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
‘মাইটি অজি’ তকমা নিয়ে কাইফের আক্রমণ
অস্ট্রেলিয়ার এই ধারাবাহিক পতন নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন মোহাম্মদ কাইফ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) একটি পোস্টে তিনি সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার আভিজাত্যে। কাইফের মতে, ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ জেতার পর থেকেই অজিদের পারফরম্যান্সে তীব্র ধস (Sharp Fall) নেমেছে।
কাইফ লিখেছেন, “২০২৩ সালের ৫০ ওভারের বিশ্বকাপ জেতার পর তাদের ‘মাইটি অজি’ বলা হতো। কিন্তু এরপরই শুরু হলো পতন। ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, ২০২৫ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি, ২০২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ (WTC)—কোথাও তারা চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি। তারা আর মোটেও ‘মাইটি’ নেই।” এখানেই থেমে থাকেননি কাইফ; তিনি পুরনো ক্ষত খুঁচিয়ে দাবি করেছেন, “যদি হার্দিক পান্ডিয়া ২০২৩ সালের আহমেদাবাদ ফাইনালে খেলতেন, তবে অস্ট্রেলিয়া সেদিনই হেরে যেত।”
মার্টিনের পাল্টা চাল: রেকর্ড ট্রফি ও সমৃদ্ধ আলমারি
কাইফের এমন চাঁছাছোলা আক্রমণের জবাবে নীরব থাকেননি অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ব্যাটিং স্তম্ভ ডামিয়েন মার্টিন। তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, ক্রিকেটের ইতিহাস কেবল একটি টুর্নামেন্ট বা সাময়িক ব্যর্থতা দিয়ে লেখা হয় না। মার্টিন তাঁর জবাবে আভিজাত্য ও পরিসংখ্যানের মিশেলে কাইফকে ধুয়ে দিয়েছেন।
মার্টিন তাঁর পোস্টে লিখেছেন, “চিরকাল কেউ শীর্ষে থাকে না। তবে আমাদের ট্রফির আলমারিটা (Trophy Cabinet) এখনো বেশ সমৃদ্ধ। সময় আবার ঘুরে দাঁড়াবে। আমাদের রেকর্ডসংখ্যক শিরোপা কোনোদিন ছোঁয়া সম্ভব হবে না।”
পরিসংখ্যানের লড়াই: কার পাল্লা ভারী?
মার্টিনের এই আত্মবিশ্বাসের মূলে রয়েছে অস্ট্রেলিয়ার অবিশ্বাস্য ক্রিকেটীয় ইতিহাস। আইসিসি ইভেন্টে অজিদের দাপট তর্কাতীতভাবে বিশ্বসেরা। তাদের ঝুলিতে রয়েছে মোট ১০টি আইসিসি ট্রফি, যার মধ্যে ৬টি ওয়ানডে বিশ্বকাপ, ২টি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি, একটি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ এবং একটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। অন্যদিকে, ভারত এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকলেও তাদের শিরোপার সংখ্যা ৬টি।
কাইফ যেখানে বর্তমান ফর্মের ওপর জোর দিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে মানসিকভাবে চাপে ফেলতে চেয়েছেন, মার্টিন সেখানে ঐতিহ্যের দোহাই দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ‘ডমিন্যান্স’ বজায় রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
অস্ট্রেলিয়ার ভবিষ্যৎ ও ক্রিকেটীয় সমীকরণ
২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার এই বিদায় নিঃসন্দেহে ক্রিকেট বিশ্বের জন্য একটি বড় বার্তা। শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুয়ের মতো তথাকথিত ‘আন্ডারডগ’ দলগুলোর উত্থান যেমন প্রশংসা কুড়াচ্ছে, তেমনি অস্ট্রেলিয়ার মতো বড় দলের ভরাডুবি নিয়ে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। কাইফের দাবি অনুযায়ী হার্দিক পান্ডিয়ার অনুপস্থিতি আহমেদাবাদ ফাইনালে প্রভাব ফেলেছিল কি না, তা নিয়ে বিতর্ক চলতেই পারে, তবে মাঠের লড়াই ছাপিয়ে এই অনলাইন ‘শ্লেজ’ যুদ্ধ ভক্তদের জন্য এক বাড়তি বিনোদন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ক্রিকেট মাঠে লড়াই শেষ হলেও, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ভারত-অস্ট্রেলিয়া দ্বৈরথ যে এখনই থামছে না, কাইফ-মার্টিন বিতর্ক তারই প্রমাণ।