• দেশজুড়ে
  • সিরাজগঞ্জে বিএনপি নেতার ছেলের তাণ্ডব: ৫ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় ব্যবসায়ীকে অপহরণ ও পিস্তল ঠেকিয়ে মারধর

সিরাজগঞ্জে বিএনপি নেতার ছেলের তাণ্ডব: ৫ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় ব্যবসায়ীকে অপহরণ ও পিস্তল ঠেকিয়ে মারধর

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
সিরাজগঞ্জে বিএনপি নেতার ছেলের তাণ্ডব: ৫ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় ব্যবসায়ীকে অপহরণ ও পিস্তল ঠেকিয়ে মারধর

সকালে ফোনে মৃত্যুর হুমকি দিয়ে বিকেলে বাস থেকে তুলে নিয়ে যমুনা পাড়ে বর্বরতা; মামলা না করতে পরিবারকে শাসানোর চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

অপরাধের চরম সীমায় কাজিপুর: পিস্তল ঠেকিয়ে অপহরণ

সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে এক ব্যবসায়ীর ওপর অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক প্রভাবশালী বিএনপি নেতার ছেলে ও সাবেক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর নাম রকিবুল হাসান ভুট্টু। অভিযোগ অনুযায়ী, বুধবার সকালে ফোনে ৫ লাখ টাকা ‘চাঁদাবাজি’ (Extortion) দাবি করে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় এবং বিকেলেই তাঁকে ফিল্মি স্টাইলে বাস থেকে নামিয়ে অপহরণ (Kidnapping) করে নিয়ে যাওয়া হয়। এই নৃশংস ঘটনার পর কাজিপুর ও এর আশপাশের জনপদে চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে।

যমুনা পাড়ে বর্বরতা ও ‘মৃত ভেবে’ ফেলে যাওয়া

বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে কাজিপুর মেঘাই পুরাতন বাজার এলাকায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভুট্টুর পরিবার এই রোমহর্ষক ঘটনার বিবরণ দেয়। গুরুতর আহত ভুট্টু বর্তমানে সিরাজগঞ্জ শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুশয্যায় চিকিৎসাধীন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নিহতের বড় ভাই শাহিন তালুকদার জানান, গত রোববার বিকেলে ভুট্টু বাসযোগে সিরাজগঞ্জ যাচ্ছিলেন। বাসটি দুবলাই ব্রিজের কাছে পৌঁছালে ৬-৭ জনের একটি সশস্ত্র দল বাসের গতিরোধ করে। তাদের নেতৃত্বে ছিলেন কাজিপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান বাবলুর ছেলে সুমন এবং কাজিপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক মেম্বার ও ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি সোলায়মান হোসেন। এক পর্যায়ে প্রকাশ্য দিবালোকে পিস্তল ঠেকিয়ে ভুট্টুকে বাস থেকে নামিয়ে যমুনা নদীর ধারে নির্জন এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সুমন ও তাঁর সহযোগীরা ভুট্টুকে বেধড়ক মারধর করে। এক পর্যায়ে তিনি সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়লে দুর্বৃত্তরা তাকে মৃত ভেবে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।

৫ লাখ টাকার ‘চাঁদা’ ও প্রশাসনের কাছে যেতে বাধা

ভুট্টুর ছোট ভাই আরিফ তালুকদার জানান, ঘটনার নেপথ্যে ছিল ৫ লাখ টাকার চাঁদা। ঘটনার দিন সকাল ১১টার দিকে সুমন ফোনে ভুট্টুকে হুমকি দিয়ে বলেন, “পুলিশ বা প্রশাসন কাউকে নিয়ে এলেও লাভ নেই, তোকে হত্যা করা হবেই।” এমনকি ভুট্টুর ওপর হামলার পরদিনও অভিযুক্তরা সশস্ত্র অবস্থায় মেঘাই বাজারে এসে পরিবারটিকে মামলা না করার জন্য শাসিয়ে যায়। এই ‘Threat’ বা হুমকির কারণে পরিবারটি আইনি পদক্ষেপ নিতে দ্বিধাবোধ করছে। সুমন ও সোলায়মানের এই বেপরোয়া আচরণ স্থানীয় ‘Law and Order’ বা আইনশৃঙ্খলার জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পুলিশের অবস্থান ও অভিযুক্তের নিরুদ্দেশ

কাজিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (OC) শাহ মো. এনায়েতুর রহমান জানিয়েছেন, ব্যবসায়ীর ওপর হামলার বিষয়টি পুলিশের নজরে এসেছে। তবে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, অভিযোগ পেলে অপরাধীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা (Legal Action) গ্রহণ করা হবে। অন্যদিকে, অভিযোগের বিষয়ে জানতে বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান বাবলুর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় এমন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড রুখতে প্রশাসনের ‘Zero Tolerance’ নীতির প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন স্থানীয় সচেতন মহল। জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে এমন ‘Mob Culture’ এবং চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাবে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

Tags: police investigation local politics public safety bnp leader law and order sirajganj crime extortion demand kidnapping news businessman attack criminal offense kazipur news armed abduction