মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: পবিত্র রমজান মাস দোরগোড়ায় পৌঁছাতেই মৌলভীবাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে অস্থিরতা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ইফতারের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে পরিচিত কলার বাজারে দেখা দিয়েছে লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি। গত কয়েক দিনের ব্যবধানে সাধারণ মানের কলার দাম রাতারাতি দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী ‘সাপ্লাই চেইন’ (Supply Chain) ব্যাহত করে কৃত্রিম সংকট তৈরির মাধ্যমে বাজার অস্থির করার চেষ্টা করছেন।
রাতারাতি দ্বিগুণ দাম বুধবার রাতে মৌলভীবাজারের বিভিন্ন খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সপ্তাহখানেক আগেও যে কলা প্রতি হালি ২০ থেকে ২৫ টাকায় বিক্রি হতো, বর্তমানে সেই একই কলা ৪০ থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে ‘মার্কেট ভ্যালু’ (Market Value) বেড়েছে শতভাগ। ক্রেতাদের অভিযোগ, রমজানের চাহিদা পুঁজি করে গুদামজাতকরণের মাধ্যমে বাজারে কলার সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ক্রেতাদের ভোগান্তি ও আর্তনাদ রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়ন থেকে বাজারে আসা নজমুল ইসলাম তার তিক্ত অভিজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, “আমাদের স্থানীয় খাদ্যাভ্যাসে বিশেষ করে দুধ-ভাতের সঙ্গে কলার চাহিদা অপরিসীম। কিন্তু বাজারে এসে দেখি গত সপ্তাহের ৩০ টাকার কলা এখন ৫০ টাকা চাচ্ছে। বাধ্য হয়ে অন্য কেনাকাটা কমিয়ে কলা কিনতে হচ্ছে। এভাবে প্রতি বছর রমজানের আগে সিন্ডিকেট করে দাম বাড়ানোটা সাধারণ মানুষের জন্য বড় জুলুম।”
ব্যবসায়ীদের অজুহাত ও ‘প্রফিট মার্জিন’ দাম বাড়ার পেছনে খুচরা ব্যবসায়ীরা পাইকারি বাজারের দোহাই দিচ্ছেন। কমলগঞ্জের শমশেরনগর বাজারের ব্যবসায়ী মুকুল মিয়া বলেন, “রমজান আসলে কলার চাহিদা বাড়ে, এটা ঠিক। কিন্তু আমরা পাইকারি বাজার থেকেই এবার অনেক বেশি দামে কলা সংগ্রহ করছি। আমাদের কেনার ওপর ভিত্তি করেই ‘রিটেইল প্রাইস’ (Retail Price) নির্ধারণ করতে হয়।”
অন্য একজন ব্যবসায়ী কবির মিয়া জানান, বড় আকারের কলার সংকট আরও প্রকট। তিনি বলেন, “বর্তমানে একটি বড় সাইজের কলা ৮ টাকায় কিনে ১০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। পরিবহন খরচ ও নষ্ট হওয়া কলার লোকসান হিসেব করলে আমাদের হাতে খুব সামান্যই ‘প্রফিট মার্জিন’ (Profit Margin) থাকছে।”
ভোক্তা অধিকারের কড়া হুঁশিয়ারি বাজারে এই কৃত্রিম অস্থিরতা ঠেকাতে সজাগ রয়েছে প্রশাসন। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, মৌলভীবাজার জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আল আমিন বলেন, “নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে আমাদের বিশেষ মনিটরিং টিম কাজ করছে। কোনো ব্যবসায়ী যদি অবৈধভাবে পণ্য মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেন বা ন্যায্য মূল্যের চেয়ে বেশি দাম রাখেন, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাজার নিয়ন্ত্রণে আমাদের ঝটিকা অভিযান (Market Drive) চলমান থাকবে।”
রমজানের শুরুতেই ফলের বাজারে এমন অস্থিরতা রোধে প্রশাসনের নিয়মিত তদারকি ও বাজার সিন্ডিকেট ভাঙার দাবি জানিয়েছেন জেলার সচেতন মহল। তারা মনে করছেন, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে রমজান জুড়ে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।