সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট গ্রহণ ও ফলাফল নিয়ে উত্থাপিত বিভিন্ন অভিযোগ ও অনিয়মের আইনি সুরাহা করতে বিশেষ ‘নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল’ গঠন করেছে হাইকোর্ট বিভাগ। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং সংক্ষুব্ধ প্রার্থীদের আইনি প্রতিকার দিতে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।
বিচারপতি ও বেঞ্চের এখতিয়ার হাইকোর্ট বিভাগের নির্দেশনায় জানানো হয়েছে, বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত একক বেঞ্চ এই ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। ১৯ ১৯৭২ সালের ‘গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ’ (Representation of the People Order - RPO) এর ৪৯ ধারা অনুযায়ী এই বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে।
হাইকোর্টের দৈনন্দিন কার্য তালিকায় (Cause List) দেখা যায়, সিভিল বা দেওয়ানি এখতিয়ারের পাশাপাশি এই বেঞ্চটি ২০০১ সালের সংশোধিত গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ মোতাবেক নির্বাচনী আবেদনপত্র গ্রহণ ও শুনানি করবেন। মূলত নির্বাচনে কারচুপি, অনিয়ম বা আইন লঙ্ঘনের বিষয়ে যেসব ‘Election Petition’ জমা পড়বে, তা এই বেঞ্চেই নিষ্পত্তি হবে।
আবেদনের সময়সীমা ও আইনি বাধ্যবাধকতা আইন অনুযায়ী, কোনো সংসদ সদস্যের বিজয়ের গেজেট (Gazette) প্রকাশের ৪৫ দিনের মধ্যে নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ তুলে ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে পারেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বা সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি। নির্ধারিত এই সময়ের পর আর কোনো অভিযোগ গ্রহণের আইনি সুযোগ নেই। এই ট্রাইব্যুনাল মূলত ভোটের বিশুদ্ধতা যাচাই এবং নির্বাচিত প্রতিনিধির বৈধতা চ্যালেঞ্জ সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে বিচারিক কাজ পরিচালনা করবে।
নির্বাচন ও গেজেট পরবর্তী পরিস্থিতি উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ২৯৭টি আসনের বেসরকারি ফলাফল বিশ্লেষণ শেষে সংসদ সদস্যদের নাম ও ঠিকানা সম্বলিত চূড়ান্ত গেজেট গত ১৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ এই গেজেট জারির মাধ্যমে নবনির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সাংবিধানিক আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন।
তবে আইনি জটিলতা এবং উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ থাকায় বর্তমানে দুটি আসনের ফলাফলের গেজেট জারি করা সম্ভব হয়নি। গেজেট প্রকাশের পরপরই এখন সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে। ঠিক এই মুহূর্তেই ট্রাইব্যুনাল গঠন হওয়ায় যেসব প্রার্থী ভোটের ফলাফল নিয়ে ‘Rigging’ বা অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন, তারা এখন আইনি লড়াইয়ের পথে হাঁটার সুযোগ পেলেন।
বিশেষজ্ঞ অভিমত আইনজীবীরা বলছেন, ‘নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল’ গঠন হওয়ায় এখন থেকে প্রার্থীরা সুনির্দিষ্ট সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালতে ফলাফল চ্যালেঞ্জ করতে পারবেন। যদি কোনো আসনে বড় ধরনের অনিয়ম প্রমাণিত হয়, তবে ট্রাইব্যুনালের রায়ে ওই আসনের নির্বাচন বাতিল বা ফলাফল পরিবর্তনেরও সুযোগ রয়েছে। ডিজিটাল যুগে ভোটের স্বচ্ছতা রক্ষায় উচ্চ আদালতের এই নজরদারি অত্যন্ত জরুরি একটি পদক্ষেপ।