দীর্ঘ ছুটির কবলে দেশের শিক্ষাঙ্গন
পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে দেশের সকল প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এক টানা দীর্ঘ ছুটির কবলে পড়তে যাচ্ছে। আজ বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) থেকে শুরু হচ্ছে এই অবকাশ, যা রমজানসহ আরও কয়েকটি সরকারি ছুটি মিলিয়ে মোট ৩৬ দিন স্থায়ী হবে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক জরুরি প্রজ্ঞাপনে এই নতুন শিক্ষাপঞ্জি বা ‘Academic Calendar’ প্রকাশ করা হয়েছে। দেশজুড়ে তীব্র গরম এবং শিক্ষার্থীদের সিয়াম সাধনার পরিবেশ নিশ্চিত করতেই এই ‘Policy Decision’ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
দিনপঞ্জির সমীকরণ: ছুটি ৩৬ না ৩৮ দিন?
মন্ত্রণালয়ের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, রমজানের এই বিশেষ ছুটি ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়ে চলবে আগামী ২৬ মার্চ পর্যন্ত। তবে ক্যালেন্ডারের হিসেবে ২৬ মার্চ বৃহস্পতিবার মহান স্বাধীনতা দিবস এবং পরবর্তী দুই দিন শুক্রবার ও শনিবার হওয়ায়, ব্যবহারিকভাবে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা আগামী ২৮ মার্চ পর্যন্ত টানা ৩৮ দিনের ছুটি উপভোগ করতে পারবেন। দীর্ঘ এই ছুটির ঘোষণা আসার পরপরই রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মধ্যে এক ধরণের উৎসবমুখর আমেজ লক্ষ্য করা গেছে।
উচ্চ আদালত ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের টানাপোড়েন
উল্লেখ্য যে, রমজানে স্কুল খোলা রাখা বা বন্ধ রাখা নিয়ে গত কয়েক দিন ধরেই এক ধরণের অস্থিরতা বিরাজ করছিল। বিষয়টি গড়ায় দেশের উচ্চ আদালত পর্যন্ত। একজন আইনজীবীর করা রিট পিটিশনের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট প্রথমে স্কুল বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে সরকারের পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালতে আপিল করা হলে হাইকোর্টের সেই আদেশ স্থগিত বা ‘Stay Order’ দেওয়া হয়। ফলে আইনিভাবে স্কুল খোলা রাখতে সরকারের কোনো বাধা ছিল না। কিন্তু জনমত এবং বিশেষ করে অভিবাবকদের উদ্বেগের কথা মাথায় রেখে শিক্ষা মন্ত্রণালয় শেষ পর্যন্ত এই দীর্ঘ ছুটির সিদ্ধান্তেই উপনীত হয়েছে।
স্বাস্থ্যের সুরক্ষা ও ধর্মীয় মূল্যবোধের অগ্রাধিকার
মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রমজান মাসে শিক্ষার্থীদের সুষ্ঠুভাবে ধর্মীয় বিচরণ ও ইবাদত-বন্দেগির সুযোগ করে দেওয়া সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। পাশাপাশি বসন্তের শেষে গ্রীষ্মের আগমনী বার্তায় আবহাওয়া ক্রমশ তপ্ত হয়ে উঠছে। এমন পরিস্থিতিতে ছোট শিশুদের শারীরিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকি বা ‘Health Risk’ এড়াতে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান বন্ধ রাখা যুক্তিযুক্ত মনে করেছে কর্তৃপক্ষ। শিক্ষকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, ছুটির এই লম্বা সময়ে শিক্ষার্থীরা যেন বাড়িতে থেকে তাদের প্রয়োজনীয় পড়াশোনা বা ‘Self-study’ চালিয়ে যায়।
পাঠ্যসূচি ও অভিভাবকদের উদ্বেগ
হঠাৎ এই দীর্ঘ ছুটির ঘোষণায় অভিভাবকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই সন্তানদের স্বাস্থ্যের কথা ভেবে সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও, সচেতন অভিভাবকদের একটি বড় অংশ সিলেবাস বা ‘Syllabus’ শেষ করা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, বছরের শুরুতে এমন দীর্ঘ বিরতি শিক্ষাবর্ষের গতিরোধ করতে পারে। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় আশ্বস্ত করেছে যে, ছুটির পর বিশেষ ক্লাস বা অতিরিক্ত সময়ের মাধ্যমে পাঠ্যসূচির সম্ভাব্য সব ঘাটতি পূরণ করা হবে। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে এই শিক্ষাসংক্রান্ত সিদ্ধান্তটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘Narrative’ তৈরি করেছে।