প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা সচিবালয়ে নিজ নিজ দপ্তরে দায়িত্ব পালন শুরু করার পর এবার পুলিশ প্রশাসনে সম্ভাব্য রদবদল নিয়ে চলছে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা।
বিশেষ করে বর্তমান পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম স্বেচ্ছায় দায়িত্বে থাকতে অনাগ্রহী, এমন তথ্য সামনে আসার পর নতুন আইজিপি নিয়োগের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। পাশাপাশি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার পদ নিয়েও জোর আলোচনা চলছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে চুক্তিভিত্তিকভাবে উচ্চপর্যায়ে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। একই সঙ্গে কর্মরত কর্মকর্তাদের মধ্য থেকেও গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বর্তমান ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাদ আলী পুনরায় একই পদে বহাল থাকতে পারেন- এমন আলোচনা বিভিন্ন মহলে শোনা যাচ্ছে। তিনি ১৯৮৪ সালে ৬ষ্ঠ বিসিএসের মাধ্যমে সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে পুলিশে যোগ দেন।
তার চুক্তিভিত্তিক মেয়াদ শেষ হবে চলতি বছরের ২১ নভেম্বর। অন্যদিকে, আইজিপি বাহারুল আলম ২০২৪ সালের ২০ নভেম্বর দুই বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পান। সে অনুযায়ী তার মেয়াদ শেষ হতে এখনও প্রায় নয় মাস বাকি রয়েছে। আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে তিনি র্যাবের মহাপরিচালক ও স্পেশাল ব্রাঞ্চের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
ডিএমপি কমিশনার পদে আলোচনায় রয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার হাসিব আজিজ, অতিরিক্ত আইজিপি (লজিস্টিকস অ্যান্ড অ্যাসেট অ্যাকুইজিশন) মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ এবং র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-এর অতিরিক্ত মহাপরিচালক ফারুক আহমেদ।
এদিকে নতুন আইজিপি হিসেবে যাদের নাম আলোচনায় রয়েছে, তাদের মধ্যে আছেন হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি দেলোয়ার হোসেন মিঞা, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অতিরিক্ত আইজিপি আলী হোসেন ফকির, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. ছিবগাত উল্লাহ এবং র্যাবের মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমান।
চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর র্যাবকে পুনর্গঠনের লক্ষ্যে শহিদুর রহমানকে চুক্তিভিত্তিকভাবে মহাপরিচালক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। আগামী ১৫ মার্চ তার চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
আইজিপি পদে আলোচনায় রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত আইজিপি মতিউর রহমান শেখ এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার সাবেক সমন্বয়ক আনসার উদ্দিন খান পাঠানও।