ভয়াবহ এই দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি
পশ্চিম আফ্রিকার দেশ নাইজেরিয়ায় একটি সিসা খনিতে (Lead Mine) ভয়াবহ গ্যাস বিস্ফোরণে অন্তত ৩৮ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় আরও ২৭ জন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে দেশটির প্লাটো রাজ্যের বাশার জেলার ‘কাম্পানিন জুরাক’ খনিতে এই বিপর্যয় ঘটে। আকস্মিক এই বিস্ফোরণ খনি শ্রমিকের পরিবার ও পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নামিয়ে এনেছে।
ঘটনার বিবরণ ও প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্য
প্লাটো রাজ্যের শাসক আলহাজি আলিয়ু আদামু ইদ্রিস আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোকে জানিয়েছেন, খনির ভেতরে মাটির নিচে কাজ করার সময় আচমকা বিস্ফোরণ ঘটে। এখন পর্যন্ত ৩৮ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে এবং আহত ২৭ জনকে উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বিস্ফোরণস্থল থেকে প্রাণে বেঁচে ফেরা এবং পাশের একটি খনিতে কর্মরত শ্রমিক ইব্রাহিম দাত্তিজো সানি দুর্ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, “আমরা ওই খনিটির খুব কাছেই কাজ করছিলাম। লোকজন খনির গভীর গর্তের ভেতরে কাজ করছিল। স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে হঠাৎ একটি বিকট শব্দে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে। মুহূর্তের মধ্যেই খনির ভেতর থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়।” তিনি জানান, নিহতদের সবাই মাটির নিচের সুড়ঙ্গে আটকা পড়েছিলেন।
মৃত্যুর নেপথ্যে বিষাক্ত কার্বন মনোক্সাইড
দুর্ঘটনার পর উদ্ধার অভিযান শেষে একটি গোপনীয় নিরাপত্তা প্রতিবেদন (Security Report) পর্যালোচনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি-র দেখা ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, খনি শ্রমিকদের অধিকাংশের মৃত্যুর কারণ হিসেবে ‘কার্বন মনোক্সাইড বিষক্রিয়া’ (Carbon Monoxide Poisoning) উল্লেখ করা হয়েছে। মাটির নিচে কাজ করার সময় সুড়ঙ্গে পর্যাপ্ত অক্সিজেন না থাকায় এবং বিস্ফোরণের ফলে সৃষ্ট বিষাক্ত গ্যাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় শ্রমিকরা নিশ্বাস নিতে ব্যর্থ হন, যা বড় ধরনের প্রাণহানি ডেকে আনে।
নাইজেরিয়ার খনি খাতের নিরাপত্তা ঝুঁকি
প্লাটো রাজ্য নাইজেরিয়ার একটি ঐতিহাসিক খনি অঞ্চল (Historic Mining Region) হিসেবে পরিচিত। এর রাজধানী জোস একসময় ‘টিন সিটি’ নামে বিশ্বজুড়ে সমাদৃত ছিল। তবে আধুনিক প্রযুক্তির অভাব এবং সঠিক সুরক্ষা ব্যবস্থার (Safety Protocol) অনুপস্থিতিতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই অঞ্চলের খনিগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
নাইজেরিয়ায় খনি দুর্ঘটনা নতুন কোনো বিষয় নয়। এর আগেও গত সেপ্টেম্বরে প্রবল বৃষ্টির সময় উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় জামফারা রাজ্যে একটি অবৈধ খনিতে পাথর ধসে কমপক্ষে ১৮ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছিল। বারবার এমন দুর্ঘটনার ফলে দেশটির খনি শ্রমিকদের পেশাগত নিরাপত্তা ও সরকারের তদারকি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠছে।