দেশের ক্রিকেটে নৈতিকতা ও শৃঙ্খলার প্রশ্নে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (BCB)। জাতীয় নারী ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক জাহানারা আলমের দায়ের করা যৌন হয়রানির অভিযোগের প্রেক্ষিতে সাবেক ক্রিকেটার ও নারী দলের সাবেক ম্যানেজার মঞ্জুরুল ইসলামকে বিসিবির সকল স্তরের কার্যক্রম থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) এক আনুষ্ঠানিক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বোর্ড এই কঠোর সিদ্ধান্তের কথা জানায়।
তদন্ত কমিটির রিপোর্টে মিলল গুরুতর প্রমাণ
বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছিল যখন অভিজ্ঞ ক্রিকেটার জাহানারা আলম একটি সাক্ষাৎকারে মঞ্জুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির (Sexual Harassment) অভিযোগ তোলেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে বিসিবি একটি ‘Independent Investigation Committee’ বা স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করে। জাহানারা তদন্ত কমিটির কাছেও চারটি সুনির্দিষ্ট বিষয়ে লিখিত অভিযোগ জমা দেন।
তদন্ত কমিটির অনুসন্ধানে দেখা গেছে, জাহানারার করা চারটি অভিযোগের মধ্যে দুটির বিপরীতে পর্যাপ্ত ও জোরালো প্রমাণ পাওয়া গেছে। বিসিবির বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মঞ্জুরুল ইসলামের কিছু আচরণ পেশাদার মানদণ্ডের (Professional Standard) সঙ্গে চরমভাবে অসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং কিছু কর্মকাণ্ড দেশের উচ্চ আদালতের নির্দেশিকার আওতায় ‘অসদাচরণ ও হয়রানি’র সংজ্ঞায় পড়ে।
ভার্চ্যুয়াল সভায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত
তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে রোববার বিসিবির একটি বিশেষ ‘Virtual Board Meeting’ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বোর্ড সদস্যরা সর্বসম্মতিক্রমে মঞ্জুরুল ইসলামকে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের ক্রিকেটের কোনো সাংগঠনিক বা প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত না করার সিদ্ধান্ত নেন। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ৩০ জুনের পর থেকেই বিসিবির সঙ্গে মঞ্জুরুলের সরাসরি কোনো চুক্তি ছিল না। তবে এই নিষেধাজ্ঞার ফলে বিসিবির অধীনে কোনো ধরনের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ‘Cricket-related activity’-তে তার ফেরার পথ চিরতরে বন্ধ হয়ে গেল।
বিসিবির কঠোর বার্তা ও পেশাদারিত্ব
বর্তমানে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলে (ACC) কর্মরত থাকলেও দেশের ক্রিকেটে মঞ্জুরুলের এই নিষেধাজ্ঞা একটি বড় দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিসিবির এই সিদ্ধান্ত নারী ক্রিকেটারদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক। ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, ‘Misconduct’ বা অপেশাদার আচরণের বিরুদ্ধে বোর্ডের এমন কঠোর অবস্থান ভবিষ্যতে অন্যান্য কর্মকর্তাদের জন্যও সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে।
জাহানারা আলমের মতো একজন সিনিয়র ক্রিকেটারের সাহসী অভিযোগ এবং পরবর্তী আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় বিসিবির এই স্বচ্ছতা ক্রীড়াঙ্গনে ইতিবাচক হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে। তবে এই বিষয়ে মঞ্জুরুল ইসলামের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।