বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে সূচিত হতে যাচ্ছে এক স্বর্ণালী অধ্যায়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে আলোর মুখ দেখছে নারীদের ফ্র্যাঞ্চাইজি ভিত্তিক টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট ‘নারী বিপিএল’। আগামী ৪ এপ্রিল থেকে পর্দা উঠবে এই জমকালো আয়োজনের, যা চলবে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) এক জরুরি ভার্চ্যুয়াল সভায় (Virtual Meeting) এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (BCB)।
‘৪ এপ্রিল শুরু, ১৪ এপ্রিল ফাইনাল’
বিসিবির প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ৪ এপ্রিল এবং মাত্র দশ দিনের এই সংক্ষিপ্ত কিন্তু ঠাসা সূচির ইতি ঘটবে ১৪ এপ্রিলের গ্র্যান্ড ফাইনালের মধ্য দিয়ে। মূলত আসন্ন আন্তর্জাতিক সূচি এবং ক্রিকেটারদের ব্যস্ততার কথা মাথায় রেখেই এই সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। দেশের প্রধান দুটি ক্রিকেট ভেন্যু ঢাকা ও চট্টগ্রামকে এই টুর্নামেন্টের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে। খুব শীঘ্রই অংশগ্রহণকারী দলগুলোর নাম, প্লেয়ার ড্রাফট (Player Draft) এবং পূর্ণাঙ্গ সূচি প্রকাশ করবে বিসিবি।
বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট ও দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান
নারী বিপিএল আয়োজনের বিষয়টি বিসিবির টেবিলে ছিল দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে। বিশেষ করে গত পুরুষ বিপিএলের প্লেয়ার অকশন (Auction) চলাকালীন বিসিবি সভাপতি এই টুর্নামেন্ট আয়োজনের প্রাথমিক পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন। বিশ্বের ক্ষমতাধর ক্রিকেট বোর্ডগুলো—যেমন ভারত (WPL), অস্ট্রেলিয়া (WBBL) এবং ইংল্যান্ড অনেক আগেই নারীদের জন্য ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ (Franchise League) শুরু করলেও বাংলাদেশ কিছুটা পিছিয়ে ছিল। তবে এই উদ্যোগের ফলে বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটাররা দেশি-বিদেশি তারকাদের সঙ্গে খেলার সুযোগ পাবেন, যা তাদের পেশাদারিত্ব ও স্কিল (Skill) বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখবে।
বিসিবির ভার্চ্যুয়াল সভার অন্যান্য সিদ্ধান্ত
রোববারের এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় কেবল নারী বিপিএল নয়, বরং আরও কিছু স্পর্শকাতর ও প্রশাসনিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে বোর্ড।
শাস্তিমূলক ব্যবস্থা: জাতীয় নারী দলের অভিজ্ঞ ক্রিকেটার জাহানারা আলমের করা যৌন হয়রানির অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় সাবেক ক্রিকেটার ও নির্বাচক মঞ্জুরুল ইসলামকে বিসিবির সকল স্তরের কার্যক্রম থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
চুক্তি বৃদ্ধি: জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেন লিপুর চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে তার মেয়াদ আরও এক মাসের জন্য বাড়ানো হয়েছে।
নতুন দিগন্তের হাতছানি
ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, নারী বিপিএল শুরু হওয়া মানে কেবল একটি টুর্নামেন্ট নয়, এটি বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটের বাণিজ্যিক ও সামাজিকীকরণের (Commercialization) পথে একটি বড় ধাপ। এর মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায় থেকে নতুন ট্যালেন্ট (Talent) উঠে আসার পথ সুগম হবে এবং স্পন্সরশিপের ক্ষেত্রেও নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে।
এখন দেখার বিষয়, প্রথম আসরে কোন কোন ফ্র্যাঞ্চাইজি দল গঠন করে এবং মাঠের লড়াইয়ে নারী ক্রিকেটাররা কেমন রোমাঞ্চ উপহার দেন। ক্রিকেটপ্রেমীদের চোখ এখন এপ্রিলের ক্যালেন্ডারে।