গত ১০ ফেব্রুয়ারি প্রথম আলো অনলাইনে ‘মাছ কাটার বঁটিতেই অভাব কেটেছে ফারজানা, রেনু ও রোকেয়াদের’ শিরোনামে একটি অনুপ্রেরণামূলক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেই প্রতিবেদনের সূত্র ধরেই দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিরা এই পরিশ্রমী নারীদের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেন। মঙ্গলবার রিভার ফিশের কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ফারজানা রহমান, রেনু বেগম ও রোকেয়া বেগম ছাড়াও উপহার পান হাসনা বেগম, পারভিন আকতার, সকিনা বেগম ও রহিমা আকতার।
সম্মান ও স্বীকৃতি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি ও বেসিসের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য আবদুল্লাহ এইচ কাফি। তিনি বর্তমানে এশীয়-ওশেনীয় অঞ্চলের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সংগঠন অ্যাসোসিওর আজীবন সভাপতি এবং জেএএন অ্যাসোসিয়েটসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। অদম্য এই নারীদের সংগ্রামের গল্প শুনে আবেগাপ্লুত আবদুল্লাহ এইচ কাফি বলেন, “উদ্যোক্তা হওয়ার চেয়েও বড় বিষয় হলো মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা। ফারজানা, রেনু আর রোকেয়ারা প্রমাণ করেছেন যে কোনো কাজই ছোট নয়। তাঁদের এই আত্মসম্মানবোধ আমাদের সমাজের জন্য এক বড় শিক্ষা।”
দক্ষতা ও পরিশ্রমের মূল্যায়ন অনলাইনভিত্তিক তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান স্কিলআপারের প্রতিষ্ঠাতা শামীম হুসাইন এই নারীদের দক্ষতা ও কঠোর পরিশ্রমের প্রশংসা করেন। তিনি ভবিষ্যতে তাঁদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। রিভার ফিশের প্রতিষ্ঠাতা ফারজানা আক্তার এবং তাঁর স্বামী সফটওয়্যার প্রকৌশলী তানভীর আজাদ জানান, এই নারীরা কেবল শ্রমিক নন, তাঁরা প্রতিষ্ঠানের প্রাণ। তাঁদের সততা ও একাগ্রতাই রিভার ফিশকে আজকের অবস্থানে নিয়ে এসেছে।
আবেগঘন প্রতিক্রিয়া উপহার পেয়ে অশ্রুসিক্ত চোখে রেনু বেগম তাঁর অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, “আমাদের মতো সাধারণ মানুষের কাজকে আপনারা যে সম্মান দিলেন, এটাই আমাদের বড় পাওয়া। এই উপহার আমাদের জন্য অনেক আনন্দের।” অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট তথ্যপ্রযুক্তি সাংবাদিক ও লেখক রাহিতুল ইসলাম। অতিথিরা একমত হন যে, ফারজানা ও রেনুদের মতো নারীরা সমাজের তথাকথিত ‘ছোট কাজ’কে জীবনের ঢাল বানিয়ে এক নতুন পৃথিবী গড়েছেন, যা অন্যদের জন্য অনুকরণীয়।