• জীবনযাপন
  • রোজায় পানিশূন্যতা রোধে জাদুকরী ভূমিকা রাখবে এই ৪ ফল: সুস্থ থাকতে ইফতার ও সেহরিতে যা রাখবেন

রোজায় পানিশূন্যতা রোধে জাদুকরী ভূমিকা রাখবে এই ৪ ফল: সুস্থ থাকতে ইফতার ও সেহরিতে যা রাখবেন

জীবনযাপন ১ মিনিট পড়া
রোজায় পানিশূন্যতা রোধে জাদুকরী ভূমিকা রাখবে এই ৪ ফল: সুস্থ থাকতে ইফতার ও সেহরিতে যা রাখবেন

দীর্ঘ সময়ের তৃষ্ণা মেটাতে এবং শরীরকে ভেতর থেকে হাইড্রেটেড রাখতে কোন ফলগুলো আপনার ডায়েটে অপরিহার্য? জেনে নিন পুষ্টিগুণ ও কার্যকারিতা।

পবিত্র রমজান মাসে দীর্ঘ সময় পানাহার থেকে বিরত থাকার ফলে শরীরে পানিশূন্যতা বা 'Dehydration'-এর ঝুঁকি বেড়ে যায়। বিশেষ করে গরমের মৌসুমে রোজা হলে শরীর থেকে ঘামের মাধ্যমে প্রচুর পানি ও খনিজ লবণ বেরিয়ে যায়, যার ফলে ক্লান্তি, মাথাব্যথা এবং হজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। এই পানিশূন্যতা রোধে কেবল সাধারণ পানি পান করাই যথেষ্ট নয়; বরং এমন কিছু ফল খাদ্যতালিকায় রাখা জরুরি যা পানি ও 'Electrolytes'-এ ভরপুর। প্রাকৃতিক উপায়ে শরীরকে সতেজ ও কর্মক্ষম রাখতে সাহায্য করবে এমন ৪টি ফলের গুণাগুণ নিচে আলোচনা করা হলো।

১. তরমুজ: হাইড্রেশনের পাওয়ার হাউস তরমুজকে বলা হয় রোজার সময়ের আদর্শ ফল। এতে প্রায় ৯২ শতাংশ পানি থাকে, যা শরীরে পানির অভাব দ্রুত পূরণ করতে সক্ষম। শুধু পানিই নয়, এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে 'Vitamin C', ভিটামিন এ এবং লাইকোপিনের মতো শক্তিশালী 'Antioxidants'। ইফতারে এক গ্লাস তাজা তরমুজের রস বা কয়েক টুকরো ঠান্ডা তরমুজ নিমেষেই ক্লান্তি দূর করে শরীরকে 'Hydrated' রাখে। এর প্রাকৃতিক শর্করা তাৎক্ষণিক শক্তি জোগাতেও সাহায্য করে।

২. শসা: শরীর ঠান্ডা রাখার প্রাকৃতিক দাওয়াই শসাতে পানির পরিমাণ প্রায় ৯৫ শতাংশ। ইফতারের টেবিলে সালাদ হিসেবে শসার ব্যবহার অত্যন্ত জনপ্রিয় হলেও এর স্বাস্থ্যগুণ অনেকেরই অজানা। শসা শরীরকে ভেতর থেকে ঠান্ডা রাখে এবং শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। এটি আঁশযুক্ত হওয়ায় কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে এবং 'Digestion' বা হজম প্রক্রিয়াকে উন্নত করে। ইফতারে ভারী খাবারের পাশাপাশি শসার সালাদ বা দইয়ের সঙ্গে শসার ‘রায়তা’ বানিয়ে খেলে পেটের অস্বস্তি কম হয়।

৩. কমলা: রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও সতেজতা ভিটামিন সি-এর অন্যতম উৎস কমলালেবুতে প্রায় ৮৬ শতাংশ পানি থাকে। দীর্ঘ সময় রোজা রাখার ফলে শরীরে যে ক্লান্তি আসে, তা দূর করতে কমলার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং পটাশিয়াম দারুণ কাজ করে। এটি শরীরের 'Immune System' বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি ত্বককে সজীব রাখে। সরাসরি ফল হিসেবে খাওয়া ছাড়াও কমলার ফ্রেশ জুস ইফতারে এক অন্যরকম প্রশান্তি আনে।

৪. ডাবের পানি: প্রাকৃতিক মিনারেলের ভাণ্ডার ফল হিসেবে ডাব বা এর পানি রমজানে শরীরের জন্য পরম বন্ধু। ডাবের পানিতে রয়েছে সোডিয়াম, পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়ামের মতো প্রয়োজনীয় 'Minerals' এবং প্রাকৃতিক ইলেকট্রোলাইট। সেহরি বা ইফতারে ডাবের পানি পান করলে তা সারা দিন শরীরের শক্তির ঘাটতি পূরণ করে এবং পানিশূন্যতা থেকে রক্ষা করে। বাজারজাত এনার্জি ড্রিংকস বা কৃত্রিম পানীয়র বদলে ডাবের পানি পান করা স্বাস্থ্যের জন্য অনেক বেশি নিরাপদ ও উপকারী।

সতর্কতা ও পরামর্শ ইফতারে অতিরিক্ত ভাজাপোড়া বা চিনিযুক্ত শরবত খাওয়ার পরিবর্তে এই ফলগুলো গ্রহণ করলে শরীর সতেজ থাকে। তবে মনে রাখবেন, ফল খাওয়ার পরপরই অতিরিক্ত পানি পান করবেন না। ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত পর্যাপ্ত বিরতি দিয়ে ফল ও পানি গ্রহণ করলে আপনার রমজান হবে আরও স্বাস্থ্যকর ও প্রাণবন্ত।

Tags: nutrition guide hydration tips immune system healthy fruits healthy living dehydration prevention ramadan health ramadan diet fasting tips electrolyte balance