রমজান মাসের মাঝামাঝি সময়ে এসে রাজশাহীর মৎস্য বাজারে এক অস্থির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। পবিত্র এই মাসে সাধারণ মানুষের প্রোটিনের অন্যতম প্রধান উৎস মাছের দাম এখন আকাশচুম্বী। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে রাজশাহীর বাজারে সব ধরনের মাছের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্যহীনতার কারণে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত ক্রেতাদের পকেটে টান পড়ছে।
নওদাপাড়া আড়তে ভোরের চিত্র: সরবরাহ বনাম চাহিদা বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) ভোরে রাজশাহী নগরীর বৃহত্তম নওদাপাড়া পাইকারি মাছ বাজারে গিয়ে দেখা যায় উপচে পড়া ভিড়। আড়তদার ও খুচরা ব্যবসায়ীদের হাঁকডাকে বাজার সরগরম থাকলেও ক্রেতাদের চোখেমুখে ছিল দুশ্চিন্তার ছাপ। ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, রমজান উপলক্ষে বাজারে মাছের ব্যাপক 'Demand' থাকলেও সেই তুলনায় 'Supply' বা সরবরাহ অনেকটাই কম। ফলে 'Wholesale Market'-এই মাছের দাম অনেকটা বেড়ে গেছে।
পাইকারি ব্যবসায়ীদের মতে, মাছের আমদানি কম হওয়ায় লটপ্রতি দাম বেশি দিয়ে কিনতে হচ্ছে। যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারে। নওদাপাড়ার এই পাইকারি বাজারের তুলনায় শহরের বিভিন্ন 'Retail Market' বা খুচরা বাজারে মাছের দাম কেজিতে অন্তত ৪০ টাকা বেশি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
বাজারে কোন মাছের কত দাম? বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে থাকা মাছগুলোর দামও এখন ঊর্ধ্বমুখী। বর্তমানে বাজারে এক কেজি ওজনের রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ২৭০-২৮০ টাকায়, যা গত সপ্তাহেও ছিল বেশ কম। বড় আকারের রুইয়ের দাম ঠেকেছে ৩৪০-৩৫০ টাকায়। অন্যান্য মাছের বর্তমান বাজারদর নিম্নরূপ:
কাতলা (মাঝারি): ৩৫০ টাকা (প্রতি কেজি)
তেলাপিয়া: ১৫০ টাকা (প্রতি কেজি)
সিলভার কার্প (মাঝারি): ২০০-২২০ টাকা (প্রতি কেজি)
মৃগেল: ২২০ টাকা (প্রতি কেজি)
পাবদা: ৩৮০ টাকা (প্রতি কেজি)
চাষের শিং মাছ: ৪০০ টাকা (প্রতি কেজি)
পাঙাশ (মাঝারি): ১৭০-১৮০ টাকা (প্রতি কেজি)
কালবাউশ: ৪০০ টাকা (প্রতি কেজি)
অর্থনৈতিক প্রভাব ও দেশীয় বাজার সংযোগ রাজশাহীর এই নওদাপাড়া বাজারটি কেবল স্থানীয় চাহিদা মেটায় না, বরং এটি উত্তরবঙ্গের একটি গুরুত্বপূর্ণ 'Supply Chain' কেন্দ্র। এখান থেকে প্রতিদিন ট্রাকযোগে ঢাকা এবং চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মাছ পাঠানো হয়। বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, রমজান মাসে এই বাজারে প্রতিদিন গড়ে অন্তত ৯০ লাখ টাকার 'Market Value'-এর মাছ কেনাবেচা হয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মাছের সরবরাহ অব্যাহত থাকায় স্থানীয় বাজারে এর কিছুটা টান পড়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
স্বস্তির বার্তা কবে? বাজারের এই অস্থিরতা নিয়ে মাছ ব্যবসায়ীরা কিছুটা আশাবাদী। তাদের মতে, রমজানের মাঝামাঝি পর্যন্ত এই উচ্চমূল্য বজায় থাকতে পারে। তবে ১৫ রোজা পার হওয়ার পর থেকে বাজারে মাছের সরবরাহ বাড়তে শুরু করলে দাম কিছুটা কমে আসতে পারে বলে তারা ধারণা করছেন। ততদিন পর্যন্ত সাধারণ ভোক্তাদের বাড়তি দামেই প্রোটিনের এই চাহিদা মেটাতে হবে।