দীর্ঘ প্রতিক্ষার অবসান। গুঞ্জন আর জল্পনাকে বাস্তবে রূপ দিয়ে অবশেষে সাত পাকের বাঁধনে বাঁধা পড়লেন দক্ষিণী চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় দুই মুখ বিজয় দেবেরাকোন্ডা এবং রাশমিকা মান্দানা। প্রায় সাত বছরের নিবিড় সম্পর্কের পর রাজস্থানের উদয়পুরে এক রাজকীয় আয়োজনের মধ্য দিয়ে জীবনের নতুন ইনিংস শুরু করলেন এই ‘পাওয়ার কাপল’। তাঁদের বিয়ের মুহূর্তের ছবি প্রকাশ্যে আসতেই তা মুহূর্তের মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড়ের গতিতে ছড়িয়ে পড়েছে।
রাজকীয় উদয়পুরে তারকাসম্মেলন
ভারতের রাজস্থানের উদয়পুরে বসেছিল এই বিয়ের বর্ণাঢ্য আসর। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জুম টিভির (Zoom TV) প্রতিবেদন অনুযায়ী, অত্যন্ত গোপনীয়তা বজায় রেখে পরিবার ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের উপস্থিতিতে সম্পন্ন হয়েছে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা। বিয়ে শেষ হতেই নবদম্পতি তাঁদের অফিসিয়াল ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে বিশেষ মুহূর্তের ছবি শেয়ার করেন। এরপরই ভক্তদের অগুনতি শুভেচ্ছা বার্তায় ভাসছে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলো। বিয়ের প্রতিটি ছবিতেই আভিজাত্য এবং সাবেকিয়ানার এক অনন্য মিশেল লক্ষ্য করা গেছে।
সাজপোশাকে ঐতিহ্যের ছোঁয়া ও নজরকাড়া ‘কালো টিকা’
বিয়ের বিশেষ দিনে রাশমিকা মান্দানার সাজ ছিল চোখে পড়ার মতো। লাল রঙের একটি জমকালো সাবেকি শাড়িতে নিজেকে সাজিয়েছিলেন এই অভিনেত্রী। সঙ্গে ছিল ভারী সোনার গয়না এবং মানানসই মেকআপ। তবে সব ছাপিয়ে নজর কেড়েছে তাঁর গালের ছোট একটি কালো টিকা। মূলত 'কুনজর' থেকে রক্ষা পেতে একটি বিশেষ রীতি মেনে এই টিকা পরেছিলেন তিনি।
অন্যদিকে, বিজয় দেবেরাকোন্ডাকে দেখা গেছে একেবারেই ঐতিহ্যবাহী লুকে। সাদা ধুতি এবং লাল রঙের উত্তরীয় পরে বিয়ের মণ্ডপে হাজির হন তিনি। বিজয়ের অঙ্গে থাকা ভারী গয়না এবং রাশমিকার মতো তাঁর গালে থাকা কালো টিকাটি ভক্তদের মধ্যে বাড়তি কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে। তাঁদের এই লুক সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন এক ফ্যাশন ট্রেন্ড (Fashion Trend) তৈরি করেছে।
দুই ভিন্ন রীতিতে বিবাহ সম্পন্ন
বিজয় ও রাশমিকার এই বিয়েতে ভারতের দুটি অঞ্চলের সংস্কৃতির মেলবন্ধন ঘটেছে। বিয়ের মূল অনুষ্ঠানটি শুরু হয় সকাল ১০টায়, অন্ধ্রপ্রদেশের ঐতিহ্যবাহী তেলুগু রীতিতে। বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণ আর পবিত্র অগ্নিকে সাক্ষী রেখে এই তারকা যুগল সাত পাকে বাঁধা পড়েন।
এরপর বিকেল ৪টায় অনুষ্ঠিত হয় কর্ণাটকের কোডাভা রীতিতে বিয়ের দ্বিতীয় পর্ব। যেহেতু রাশমিকার আদি নিবাস কর্ণাটকের কুর্গ অঞ্চলে, তাই সেই অঞ্চলের বিশেষ পোশাক এবং অলঙ্কারে সেজে স্বতন্ত্র আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিয়ের কাজ সম্পন্ন করেন তাঁরা। দুই ভিন্ন রীতির এই মেলবন্ধন অনুষ্ঠানটিকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়।
‘প্রিয় বন্ধুই এখন স্ত্রী’, বিজয়ের আবেগঘন বার্তা
বিয়ের একগুচ্ছ ছবি পোস্ট করে নিজের ভেরিফায়েড হ্যান্ডেলে একটি আবেগঘন ক্যাপশন লিখেছেন বিজয়। তিনি লেখেন, “একদিন আমার ওকে খুব মনে পড়ছিল। এতটাই যে বুঝেছিলাম, ও আশেপাশে থাকলে আমার সবকিছু ভালো লাগে। ও পাশে বসে থাকলে আমার সাধারণ খাবারও অমৃত মনে হয়। ও আমার সঙ্গে জিম করলে কষ্ট কম হয়, আনন্দ বেশি হয়। আমি উপলব্ধি করেছি, ওকে আমার খুব দরকার। ও পাশে থাকলে মনে হয় আমি ঘরেই আছি। শেষমেশ আমি আমার প্রিয় বন্ধুকেই স্ত্রী হিসেবে পেলাম।” বিজয়ের এই অকৃত্রিম স্বীকারোক্তি নেটজনতার মন জয় করে নিয়েছে।
উল্লেখ্য, বিজয়-রাশমিকার এই গ্র্যান্ড ওয়েডিং (Grand Wedding) অনুষ্ঠানে ভারতের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং চলচ্চিত্র জগতের শীর্ষ তারকাদের শুভেচ্ছা বার্তার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পক্ষ থেকেও শুভেচ্ছা বার্তা পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে, যা এই উৎসবের আমেজকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।