বাংলাদেশের ইসলামী সংগীত বা নাশিদ (Nasheed) জগতে এক নতুন বিপ্লবের পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে। দেশের জনপ্রিয় ইসলামী ঘরানার শিল্পী মুছলেহ উদ্দিন আখন্দের নতুন সৃষ্টি ‘ইয়া শাফী’ (Ya Shafi) সম্প্রতি ইউটিউবে মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই বিনোদন ও সংগীত অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কেবল ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য নয়, বরং এর হাই-এন্ড প্রোডাকশন ভ্যালু এবং আন্তর্জাতিকমানের সিনেমাটিক (Cinematic) উপস্থাপনা মুগ্ধ করেছে সাধারণ শ্রোতা থেকে শুরু করে সমালোচকদেরও।
হলিউডের আঙিনায় বাংলাদেশের নাশিদ
‘ইয়া শাফী’ নাশিদটির সবচেয়ে বড় চমক এর শুটিং লোকেশন। মরক্কোর বিখ্যাত ওউয়ারজাজাত (Ouarzazate) শহরে এর চিত্রায়ন করা হয়েছে। উল্লেখ্য, এই শহরটি হলিউডের বড় বাজেটের সব ক্ল্যাসিক সিনেমা এবং বিশ্বখ্যাত টেলিভিশন সিরিজ ‘গেম অব থ্রোনস’ (Game of Thrones)-এর শুটিংয়ের জন্য বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। সেই ঐতিহাসিক ও ধ্রুপদী প্রেক্ষাপটকে সঙ্গী করেই নির্মিত হয়েছে মুছলেহ উদ্দিনের এই আধ্যাত্মিক সংগীতটি। মরক্কোর বিস্তীর্ণ ধুধু মরুভূমি, প্রাচীন স্থাপত্যশৈলী আর জাদুকরী আলো-ছায়ার খেলা এই নাশিদকে দিয়েছে এক অনন্য ভিজ্যুয়াল এস্থেটিকস (Visual Aesthetics)।
বিশ্বমানের নির্মাণ ও আন্তর্জাতিক মেলবন্ধন
ইসলামী সংগীতকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন মুছলেহ উদ্দিন আখন্দ। এর আগে ‘ফিদাকা কালবিহ’ বা ‘হৃদয়ের গহিনে তুমি আল্লাহ’-র মতো কাজগুলো দিয়ে তিনি নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছিলেন। তবে ‘ইয়া শাফী’ যেন তাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। এই মিউজিক ভিডিওটি পরিচালনা করেছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন নির্মাতা বদর আল হাসানি (Bader Al Hassani)।
বিশ্ববিখ্যাত শিল্পী সামি ইউসুফ কিংবা মাহের জেইনের মিউজিক ভিডিওগুলোতে দর্শকরা যে ধরণের গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ড (Global Standard) বা বিশ্বমানের ছোঁয়া খুঁজে পান, মুছলেহ উদ্দিনের এই কাজেও সেই একই আমেজ প্রতিফলিত হয়েছে। দেশীয় সংস্কৃতির আবেগ আর বৈশ্বিক কারিগরি দক্ষতার এক অপূর্ব মেলবন্ধন ঘটেছে এখানে।
আধ্যাত্মিক আর্তি ও দর্শক প্রতিক্রিয়া
‘ইয়া শাফী, ইয়া আল্লাহ’—নাশিদটির কথা ও সুরের পরতে পরতে মিশে আছে স্রষ্টার প্রতি এক নিঃশব্দ মিনতি ও প্রশান্তির আবেদন। শিল্পী মুছলেহ উদ্দিনের দরাজ কণ্ঠ আর মরক্কোর প্রাচীন লোকেশনের গম্ভীরতা মিলেমিশে এক আধ্যাত্মিক পরিবেশ তৈরি করেছে। ইউটিউবের (YouTube) কমেন্ট বক্সে প্রশংসার জোয়ার বইছে। অনেক শ্রোতাই মন্তব্য করছেন যে, এই নাশিদটি প্রমাণ করে সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা এবং সৃজনশীল চিন্তা থাকলে বাংলাদেশের ইসলামী সংগীতও বিশ্বমঞ্চে দাপটের সঙ্গে প্রতিনিধিত্ব করতে পারে।
সাংস্কৃতিক কূটনীতি ও আগামীর প্রত্যাশা
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ‘ইয়া শাফী’-র মতো কাজগুলো কেবল একটি ধর্মীয় সংগীত নয়, বরং এটি বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক সক্ষমতার একটি শক্তিশালী ব্র্যান্ডিং। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে (Digital Platform) যেখানে মানসম্পন্ন কন্টেন্টের জন্য দর্শকরা মুখিয়ে থাকেন, সেখানে মুছলেহ উদ্দিন আখন্দের এই উদ্যোগ এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করল।
কেবল একটি গান নয়, বরং ধারাবাহিকভাবে এমন আন্তর্জাতিকমানের প্রোডাকশন উপহার দেওয়ার যে ধারা মুছলেহ উদ্দিন শুরু করেছেন, তা দেশীয় নাশিদ ইন্ডাস্ট্রিকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। ইউটিউবে ট্রেন্ডিং লিস্টে থাকা এই নাশিদটি বর্তমানে সংগীতপ্রেমীদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষস্থানে অবস্থান করছে।