বিতর্ক যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না আলোচিত সংগীতশিল্পী মাইনুল আহসান নোবেলের। আইনি জটিলতা থেকে সাময়িক মুক্তি পেলেও নতুন করে গুরুতর ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগে বিদ্ধ হলেন তিনি। গ্রেফতার হওয়ার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মাথায় জামিন পেয়েই মামলার বাদীকে নিজ বাসায় নিয়ে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে এই গায়কের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (CMM) আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই চাঞ্চল্যকর দাবি করেন মামলার বাদী অনন্যা শবনম রোজ।
‘মিডিয়ার সামনে এক, অন্তরালে অন্য রূপ’
আদালত প্রাঙ্গণে ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে রোজ অভিযোগ করেন, গত মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) জামিন পাওয়ার পরপরই নোবেল তাঁকে শারীরিক সজোরে আঘাত করেন। তাঁর দাবি, কেন গায়কের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে— মূলত এই ক্ষোভ থেকেই নোবেল তাঁকে বাসায় নিয়ে হেনস্তা শুরু করেন। শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখিয়ে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে রোজ বলেন, “মিডিয়ার সামনে এই মানুষটা নিজেকে যেভাবে উপস্থাপন করে, পর্দার আড়ালে বা ব্যক্তিগত জীবনে সে সম্পূর্ণ আলাদা। আমি ওকে খুব কাছ থেকে চিনি। ও চরম পর্যায়ের একজন নেশাখোর, অথচ সব সময় নিজেকে পরিস্থিতির শিকার বা ‘ভিকটিম’ (Victim) হিসেবে দাবি করে সিম্প্যাথি পাওয়ার চেষ্টা করে।”
নেপথ্যে ১৪ লাখ টাকা ও হেনস্তার মামলা
উল্লেখ্য, নোবেলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুতর। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে রোজকে আটকে রাখা, মানসিকভাবে হেনস্তা করা এবং আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণের চেষ্টার মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, বাদীর কাছ থেকে প্রায় ১৪ লাখ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগেও অভিযুক্ত এই কণ্ঠশিল্পী। বর্তমানে এই পুরো বিষয়টি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বা পিবিআইয়ের (PBI) গভীর তদন্তাধীন (Investigation) রয়েছে।
গ্রেফতার থেকে জামিন: ঘটনার ঘনঘটা
আইনি প্রক্রিয়ায় দেখা যায়, মামলার প্রাথমিক তদন্তে প্রাপ্ত প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত নোবেলের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা (Arrest Warrant) জারি করলে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি সিদ্ধিরগঞ্জের বটতলা এলাকা থেকে ডেমরা থানা পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। তবে আইনের ফাঁক গলে হোক কিংবা আইনি যুক্তিতে, গ্রেফতারের ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ার আগেই অর্থাৎ ২৪ ফেব্রুয়ারি আদালত থেকে জামিন লাভ করেন তিনি। কিন্তু কারামুক্তির আনন্দ স্থায়ী হওয়ার আগেই ফের শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে বিতর্কের কেন্দ্রে চলে এলেন তিনি।
আইনি সংকটে নোবেলের ক্যারিয়ার
সংগীতের মঞ্চে আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তা পেলেও ব্যক্তিগত জীবনের লাগামহীন আচরণ এবং আইনি জটিলতায় নোবেলের পেশাদার ক্যারিয়ার এখন হুমকির মুখে। এর আগেও একাধিকবার মাদকাসক্তি এবং সহকর্মীদের প্রতি অশোভন আচরণের কারণে ‘সোশ্যাল মিডিয়া’ (Social Media) ও মূলধারার গণমাধ্যমে সমালোচিত হয়েছেন তিনি। নতুন এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে আদালত বা তদন্তকারী সংস্থা তাঁর জামিন বাতিলের কোনো পদক্ষেপ নেয় কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, জামিনে থাকা অবস্থায় মামলার বাদীকে ভয়ভীতি দেখানো বা শারীরিক আঘাত করা জামিনের শর্ত লঙ্ঘনের নামান্তর, যা নোবেলের জন্য পুনরায় জেলহাজতের পথ প্রশস্ত করতে পারে।