জবাবে তালেবানের বিরুদ্ধে ‘প্রকাশ্য যুদ্ধ’ ঘোষণা করে শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ভোরে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলসহ বিভিন্ন শহরে বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১৮০ জন নিহত হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
চলমান সংঘাতময় পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ও জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্ক আলাদা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
বার্তা সংস্থা বিবিসি জানিয়েছে, গুতেরেস উভয় দেশকে আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে তাদের বাধ্যবাধকতাগুলো কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষ করে তিনি আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
অন্যদিকে, তুর্ক দুই দেশের মধ্যে সংলাপের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, আফগানিস্তানের বিপক্ষে ‘প্রকাশ্য যুদ্ধ’ ঘোষণা দিয়ে দেশটির রাজধানী কাবুলের পাশাপাশি কান্দাহার ও পাকতিকা এলাকায় হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান।
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোহাম্মদ আসিফ জানান, তারা আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য যুদ্ধে নেমেছেন। কারণ, ইসলামাবাদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে। তিনি বলেন, এখন প্রকাশ্য যুদ্ধ শুরু হয়েছে।
এক্সে এক পোস্টে তিনি বলেন, আফগানিস্তান থেকে ন্যাটো বাহিনী চলে যাওয়ার পর আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম তালেবান আফগান জনগণের কল্যাণের জন্য কাজ করবে। উল্টো তারা আফগানিস্তানকে ভারতের কলোনি করে তুলেছে ও সন্ত্রাসবাদ রপ্তানি করছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ বলেন, তাদের সেনারা আফগান আগ্রাসনের উপযুক্ত জবাব দেবে। এক্সে একাধিক পোস্ট করে তিনি দাবি করেন, পুরো দেশ সেনাদের পাশে আছে।
পাকিস্তান জানিয়েছে, তারা আফগানিস্তানে ‘গজব লিল হক’ অপারেশন চালাচ্ছে।
কাবুল, কান্দাহার, পাকতিয়ায় সামরিক স্থাপনায় বোমা ফেলা হয়েছে। কাবুলে দুটি ও কান্দাহারে একটি ব্রিগেড সদরদপ্তর ধ্বংস করা হয়েছে বলে তাদের দাবি। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র মোশারফ জাফরি জানান, পাকিস্তান ২৭টি আফগান তালেবান শিবির ধ্বংস করেছে। ৮০টার বেশি কামান ধ্বংস করেছে, নয়জন তালেবান সেনাকে আটক করা হয়েছে।
তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লা মুজাহিদ জানান, বৃহস্পতিবার সীমান্ত অঞ্চলে দুই পক্ষের মধ্যে গুলি বিনিময় হয়। তিনি বলেন, রোববারের হামলার জবাবেই এ আক্রমণ।
সামাজিক মাধ্যমে তিনি লেখেন, দেশের বিদ্রোহী ও পাক সেনাদের আক্রমণের পর পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী সেনা ঘাঁটির ওপর আক্রমণ শুরু করা হয়েছে। এই আক্রমণ ডুরান্ড লাইন বরাবর হয়েছে।
দুই দেশের মধ্যে দুই হাজার ৬১১ কিলোমিটারের সীমান্তই ডুরান্ড লাইন।