মধ্যপ্রাচ্যের আকাশজুড়ে এখন যুদ্ধের ঘনঘটা। ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান তীব্র সামরিক উত্তেজনার প্রভাব সরাসরি পড়েছে আন্তর্জাতিক আকাশপথে। এই বৈশ্বিক সংকটের মুখে পড়ে সৌদি আরবের জেদ্দায় সপরিবারে আটকা পড়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিম। ওমরাহ পালন শেষে দেশে ফেরার কথা থাকলেও Geopolitical Tension বা ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে অনিশ্চয়তায় পড়েছে তার ফেরা।
মাঝ আকাশ থেকে ফিরে এল বিমান শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক আবেগঘন স্ট্যাটাসে মুশফিক নিজেই এই সংকটের কথা ভক্তদের জানিয়েছেন। তিনি জানান, কয়েক দিন আগে ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে তিনি মক্কায় গিয়েছিলেন। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে শনিবার সকালে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের (Emirates Airlines) ‘ইকে ০৮০৬’ (EK 0806) ফ্লাইটে দুবাই হয়ে ঢাকা ফেরার কথা ছিল তার। কিন্তু বিমানটি উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরই মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় চরম নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় মাঝ আকাশ থেকেই ফ্লাইটটি আবার জেদ্দায় ফিরে যেতে বাধ্য হয়।
সোশ্যাল মিডিয়ায় মুশফিকের আর্তি জেদ্দা বিমানবন্দরে হাজারো সাধারণ যাত্রীর সঙ্গে অপেক্ষমাণ মুশফিকুর রহিম তার পোস্টে লেখেন, “আসসালামু আলাইকুম। আজ সকালে আমরা জেদ্দা থেকে দুবাইয়ের উদ্দেশ্যে রওনা দিই। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ফ্লাইটটি আবার জেদ্দায় ফিরে আসে।” অনিশ্চয়তা প্রকাশ করে এই তারকা ক্রিকেটার আরও বলেন, “এখন আমি জেদ্দা বিমানবন্দরে আছি। এখানে আমার সঙ্গে হাজারো যাত্রী আটকে আছেন। সর্বশক্তিমান আল্লাহই জানেন কবে এবং কীভাবে আমরা গন্তব্যে পৌঁছাতে পারব।” বিশেষ করে ঢাকাগামী সাধারণ যাত্রীদের নিরাপত্তা ও দ্রুত প্রত্যাবর্তনের জন্য তিনি দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।
বিপর্যস্ত আন্তর্জাতিক এভিয়েশন সেক্টর ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার খবর এবং পরবর্তীতে ইরানের পাল্টা ড্রোন ও মিসাইল হামলার আশঙ্কায় পুরো মধ্যপ্রাচ্যের Flight Operation কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় বাহরাইন, কুয়েত, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের আকাশসীমা আংশিক বা পূর্ণাঙ্গভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ সিভিল এভিয়েশন (Civil Aviation) এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত দাম্মাম, জেদ্দা, মদিনা ও রিয়াদগামী ফ্লাইটগুলো বিশেষ পর্যবেক্ষণে থাকবে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সও সাময়িকভাবে ওই অঞ্চলের বেশ কিছু গন্তব্যে তাদের সেবা স্থগিত করেছে।
অনিশ্চয়তায় হাজারো বাংলাদেশি কেবল মুশফিকুর রহিমই নন, তার সঙ্গে জেদ্দা বিমানবন্দরে আটকে আছেন কয়েক হাজার বাংলাদেশি ওমরাহ যাত্রী। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর সূত্রমতে, পরবর্তী নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত ওই অঞ্চলে বেসামরিক বিমান চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। এই Security Crisis কতক্ষণ স্থায়ী হবে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর ধোঁয়াশা। আপাতত জেদ্দাতেই অবস্থান করতে হচ্ছে মুশফিকসহ অন্য যাত্রীদের, যেখানে প্রতিনিয়ত বাড়ছে উৎকণ্ঠা।