বিশ্বকাপের ‘সুপার এইট’ পর্বের এক শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ে নিউজিল্যান্ডকে ৪ উইকেটে পরাজিত করে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে ইংলিশদের এই জয় কেবল তাদের গ্রুপ সেরা করেনি, বরং টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়ার দ্বারপ্রান্তে থাকা পাকিস্তানের সেমিফাইনাল স্বপ্নকেও নতুন করে অক্সিজেন দিয়েছে। ইংল্যান্ডের এই জয়ে গ্রুপের সমীকরণ এখন এমন এক বিন্দুতে দাঁড়িয়েছে, যেখানে নিউজিল্যান্ড ও পাকিস্তান—উভয় দলের ভাগ্যই নির্ভর করছে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচের ওপর।
পয়েন্ট টেবিলের জটিল রসায়ন গ্রুপ-২ থেকে ইংল্যান্ড ৩ ম্যাচের সবকটিতে জয়লাভ করে ৬ পয়েন্ট নিয়ে ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে গেছে। অন্যদিকে, সমান ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে নিউজিল্যান্ড। ২ ম্যাচে মাত্র ১ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তিনে থাকা পাকিস্তানের সামনে এখন সেমিফাইনালে ওঠার গাণিতিক সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে এজন্য শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শেষ ম্যাচে পাকিস্তানকে কেবল জিতলেই হবে না, বরং মেলাতে হবে বিশাল ‘Net Run Rate’-এর ব্যবধান। পাকিস্তান হেরে গেলে কোনো হিসেব ছাড়াই শেষ চারে পৌঁছে যাবে কিউইরা।
নিউজিল্যান্ডের সংগ্রহ ও স্পিন ফাঁদ টসে জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে নিউজিল্যান্ডের দুই ওপেনার টিম সেইফার্ট ও ফিন অ্যালেন ‘Powerplay’-তে ঝড়ো সূচনা করেন। উদ্বোধনী জুটিতে মাত্র ৬.৫ ওভারে ৬৪ রান যোগ করে বড় সংগ্রহের ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন তারা। সেইফার্ট ৩৫ এবং অ্যালেন ২৯ রান করে বিদায় নেওয়ার পর ইংলিশ স্পিনারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে খেই হারিয়ে ফেলে কিউই মিডল অর্ডার। রাচিন রবীন্দ্র (১১) এবং মার্ক চ্যাপম্যান (১৫) দ্রুত বিদায় নিলে রানের গতি কমে যায়। গ্লেন ফিলিপসের ৩৯ রানের ইনিংসে ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৫৯ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর পায় নিউজিল্যান্ড। ইংল্যান্ডের হয়ে আদিল রশিদ, উইল জ্যাকস ও রেহান আহমেদ প্রত্যেকেই ২টি করে উইকেট শিকার করেন।
ইংল্যান্ডের ব্যাটিং বিপর্যয় ও রোমাঞ্চকর ঘুরে দাঁড়ানো ১৬০ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে শুরুতেই চরম বিপর্যয়ে পড়ে ইংল্যান্ড। প্রথম ওভারেই ফিল সল্ট এবং দ্বিতীয় ওভারে অধিনায়ক জস বাটলারকে হারিয়ে স্কোরবোর্ডে মাত্র ২ রানে ২ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকে তারা। চাপের মুখে হ্যারি ব্রুক (২৬) এবং জ্যাকব বেথেল (২১) প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও দলীয় ৫৮ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যাওয়ার শঙ্কায় পড়ে ইংলিশরা।
পরবর্তীতে স্যাম কারান (২৪) এবং টম ব্যান্টন (৩৩) হাল ধরলেও ১০০ রানে ৫ উইকেট এবং ১১৭ রানে ৬ উইকেট হারানো ইংল্যান্ডের জন্য জয় তখন বেশ কঠিন মনে হচ্ছিল। কিন্তু লোয়ার অর্ডারে অবিশ্বাস্য ব্যাটিং প্রদর্শনী দেখান উইল জ্যাকস ও রেহান আহমেদ। মাত্র ১৬ বলে ৪৪ রানের হার না মানা এক ঝোড়ো জুটি গড়ে ৪ বল বাকি থাকতেই দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন তারা। জ্যাকস ১৮ বলে ৩২* এবং রেহান ৭ বলে ১৯* রান করে অপরাজিত থাকেন। কিউই স্পিনার রাচিন রবীন্দ্র ৩ উইকেট নিয়েও দলের হার এড়াতে পারেননি।
সেমিফাইনালের সমীকরণ: তাকিয়ে পাকিস্তান ইংল্যান্ডের এই জয়ে নিউজিল্যান্ডের পয়েন্ট এখন ৩-এ থমকে আছে। পাকিস্তান যদি তাদের শেষ ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে বড় ব্যবধানে হারাতে পারে, তবে রান রেটে নিউজিল্যান্ডকে টপকে সেমিফাইনাল খেলতে পারবে তারা। তবে শ্রীলঙ্কা জিতে গেলে কিউইরাই ইংল্যান্ডের সঙ্গে শেষ চারে যোগ দেবে। ফলে পুরো ক্রিকেট বিশ্বের নজর এখন শ্রীলঙ্কা বনাম পাকিস্তান মহোৎসবের দিকে।