টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের টিকিট পেতে পাকিস্তানের সামনে সমীকরণ ছিল অত্যন্ত কঠিন। লঙ্কানদের বিপক্ষে কেবল জয় নয়, বরং অন্তত ৬৪ রানের বড় ব্যবধানে জিততে হতো বাবর আজমের উত্তরসূরিদের। এমন ‘ডু অর ডাই’ (Do or Die) ম্যাচে ঠিক যেমন শুরু প্রয়োজন ছিল, ক্যান্ডির মাঠে ঠিক তেমন অগ্নিঝরা ব্যাটিং উপহার দিলেন দুই ওপেনার ফখর জামান ও সাহিবজাদা ফারহান। এই যুগলের ব্যাটে চড়ে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২১২ রানের বিশাল পাহাড় গড়েছে পাকিস্তান।
বিশ্বরেকর্ড গড়া পার্টনারশিপ ম্যাচের শুরু থেকেই পাকিস্তানি ব্যাটারদের রণভঙ্গি ছিল আগ্রাসী। ফখর ও ফারহানের উদ্বোধনী জুটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে যে কোনো উইকেটে সর্বোচ্চ রানের জুটির নতুন রেকর্ড (World Record) গড়েছে। তাদের ১৭৬ রানের এই তাণ্ডবে ভেঙে গেছে মাত্র ১৮ দিন আগে গড়া নিউজিল্যান্ডের ফিন অ্যালেন ও টিম সেইফার্টের রেকর্ডটি (১৭৫ রান)। ১৬তম ওভারে ফখর জামান যখন আউট হন, ততক্ষণে পাকিস্তানের স্কোরবোর্ডে রানের পাহাড় নিশ্চিত হয়ে গেছে।
বিরাট কোহলিকে ছাড়িয়ে ফারহানের মহাকীর্তি এদিন কেবল দলীয় রেকর্ড নয়, ব্যক্তিগত অর্জনেও ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়েছেন সাহিবজাদা ফারহান। ২০১৪ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এক আসরে বিরাট কোহলির গড়া ৩১৯ রানের সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডটি আজ ভেঙে চুরমার করে দিয়েছেন ফারহান। চলতি আসরে বর্তমানে তার সংগ্রহ ৩৮৩ রান, যা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এক আসরে কোনো ব্যাটারের করা সর্বোচ্চ রানের নতুন মাইলফলক। ৫৯ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করা ফারহান ৯টি চার ও ৫টি ছক্কায় সাজিয়েছেন তার ১০০ রানের ইনিংসটি। চলতি বিশ্বকাপে এটি তার দ্বিতীয় সেঞ্চুরি (Century), এর আগে নামিবিয়ার বিপক্ষেও শতক হাঁকিয়েছিলেন তিনি।
ফখর জামানের ঝোড়ো ব্যাটিং ও মাঝপথের ধস ফারহানকে যোগ্য সঙ্গ দিয়ে ফখর জামান ছিলেন আরও বেশি বিধ্বংসী। মাত্র ২৭ বলে হাফসেঞ্চুরি (Half Century) পূর্ণ করা ফখর খেলেন ৪২ বলে ৮৪ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস। তার ইনিংসে ছিল ৯টি চার ও ৪টি দৃষ্টিনন্দন ছক্কা। তবে এই দুই টপ-অর্ডার ব্যাটার ফেরার পর পাকিস্তানের মিডল অর্ডারে দেখা দেয় চরম বিপর্যয়। ১৭৬ রানে ১ উইকেট থেকে ২১২ রানে পৌঁছাতেই ৮ উইকেট হারিয়ে বসে তারা। শেষ ৩৪ রানের ব্যবধানে ৮টি উইকেটের পতন না ঘটলে পাকিস্তানের স্কোর ২৫০ ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল।
লঙ্কান বোলারদের কামব্যাক ও সেমির সমীকরণ শ্রীলঙ্কার পক্ষে বল হাতে সফল ছিলেন দিলশান মদুশাঙ্কা, তিনি ৩টি উইকেট শিকার করেন। অধিনায়ক দাসুন শানাকা নেন ২টি উইকেট। ক্যান্ডির উইকেটে ২১২ রানের লক্ষ্য তাড়া করা যে কোনো দলের জন্যই বড় চ্যালেঞ্জ। তবে পাকিস্তানের জন্য মূল মিশন এখন বোলিং ইউনিটের ওপর। সেমিফাইনালে কোয়ালিফাই (Qualify) করতে হলে শ্রীলঙ্কাকে অবশ্যই ১৪৭ রানের মধ্যে আটকে রাখতে হবে শাহিন আফ্রিদি ও শাদাব খানদের। ৬৪ রানের ব্যবধানে জয় পেলেই কেবল শেষ চারে জায়গা করে নেবে পাকিস্তান।